বড়াইগ্রাম মত্স্যবীজ খামারের উত্পাদন দেড় যুগ ধরে বন্ধ

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৪, ২১:৩৭
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মত্স্যবীজ উত্পাদন খামারে প্রায় দেড় যুগ ধরে পোনা উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। এলাকার মত্স্যচাষীরা সংগ্রহ করতে পারছেন না মাছের পোনা। বছরের পর বছর ধরে খামারটি অব্যবহূত থাকায় যাবতীয় স্থাপনা নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মত্স্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ১৯৯৫ সালে বড়াইগ্রামসহ দেশের ৮টি সরকারি মত্স্যবীজ উত্পাদন খামার ইজারার মাধ্যমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৯৭ সালে নাটোরের রকিব উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৫ বছরের জন্য মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বড়াইগ্রাম থানার মোড়ের স্থানীয়ভাবে পাঁচ পুকুর নামে পরিচিত খামারটি ইজারা দেয়া হয়। ইজারার শর্ত মোতাবেক মত্স্যবীজ উত্পাদন করার কথা থাকলেও খামারের পুকুরে প্রায় দেড়যুগ যাবত্ কোন বীজ উত্পাদন না করে মাছ চাষ করেছেন লিজ গ্রহিতা। প্রায় এক বছর আগে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় খামারটি মত্স্য বিভাগ নিজেরা দেখভাল করছে। কিন্তু পোনা উত্পাদনের জন্য কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খামারের ওভার হেড ট্যাংক, হ্যাচিক বোতল, ডিপ রাউন্ড ট্যাংক, পানি সরবরাহের পাম্পসহ মূল্যবান বিভিন্ন যন্ত্রপাতি হারিয়ে গেছে। হ্যাচারি ঘর, স্টোর রুমগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব ঘরের দরজা-জানালা কিছুই এখন আর অবশিষ্ট নেই। খামার কর্মকর্তার বাসভবনটি গোয়াল ঘর হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। গাভী পালন আর সংস্কারের অভাবে বাসভবনটি একেবারেই ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে খামারটিতে একটি সাইনবোর্ড আর একজন পাহারাদার নিয়োগ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে মত্স্য বিভাগ। জালশুকা গ্রামের মত্স্যচাষী মাহবুবুর রহমান মবু জানান, আমাদেরকে পুকুরের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে পোনা কিনে আনতে হয়। এ খামারে মাছের বীজ উত্পাদন করা হলে আমাদের ব্যয় ও দুর্ভোগ দুটোই কমতো। উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, খামারে আপাতত একজন পাহারাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে খামারটি লাভজনক করতে আমরা সার্বিক চেষ্টা করবো।