মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৪, ২২:১০
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সরকারের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিবার ও সমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আর বয়কট করতে হবে মাদক ব্যবসায়ীদের। বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অলোচনা সভায় বক্তারা এ আহবান জানান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, শিক্ষা, খাদ্য ও অর্থনীতির সূচকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। এই অগ্রযাত্রা কোনভাবে ব্যাহত হতে দেয়া যাবে না। অথচ তরুণ প্রজন্মের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে মাদকের নেশা। তিনি বলেন, মাদক বাংলাদেশে তৈরি হয় না। এসব ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় তৈরি হয়। কিন্তু এর বাজার হিসেবে ব্যবহূত হয় বাংলাদেশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ২০০৮ সালে ভারতে ও ২০১২ সালে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি হয়। তখন উভয় সরকারই কথা দিয়েছিল এ ব্যাপারে তারা ব্যবস্থা নেবে। সম্প্রতি বিজিবির সঙ্গেও একটি বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তার পরও কিছু অসত্ ব্যবসায়ী মাদক পাচারে যুক্ত রয়েছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ। মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানান তিনি। বক্তারা বলেন, এ সমস্যা কেবল আমাদের দেশেই নয়, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২৮ কোটি লোক হেরোইন ও কোকেনের মত ভয়ানক মাদকের নেশায় আসক্ত। এছাড়া অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্তদের সংখ্যা প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি। মাদকের ভয়াল এ থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না আমাদের দেশও। এখানে সৃষ্টি হচ্ছে কিশোরী ঐশীর মতো ঘটনা। সৃষ্টি হচ্ছে পারিবারিক কলহ, সংঘটিত হচ্ছে হত্যাকাণ্ড। ধ্বংস হচ্ছে আমাদের মেধা। সরকার এসব ঠেকাতে চেষ্টা করছে। মাদক নির্মূল করার পাশাপাশি সব স্কুল ও কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা। মাদকাসক্তদের সমাজে আবার ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এসব আসক্তদের চিকিত্সা দিয়ে তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে ফিরিয়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে আমাদের আশঙ্কা দূর হবে বলে জানান বক্তারা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতোয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আমির হোসেন। অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০১৪ উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় ৪ গ্রুপে ১২ শিক্ষার্থী, রচনা প্রতিযোগিতায় ২ গ্রুপে ৬ বিজয়ী শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি। সকালে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।