বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভারতের ভূমিকা চাই

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৪, ২২:১৫
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারত তার পাশের দেশ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখতে চাইবে এমনটাই প্রত্যাশা করে সবাই। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভারতের অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। ভারতের নির্বাচনের ফলাফলে মানুষের মনে আশা জেগেছে যে, ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায় তারা দেখতে পাবে। পারস্পরিক লাভ ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে এ সম্পর্ক গড়ে উঠবে। অপরদিকে সুষমা স্বরাজ খালেদা জিয়াকে বলেছেন, ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের বিশেষ কোনো দল নয়, জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। পিপলস-টু-পিপলস সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে চায়। ভারতের নতুন সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সার্কের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে চায়। শুক্রবার সকালে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে প্রায় ৩৫ মিনিট বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বেগম জিয়া হোটেলে পৌঁছান সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত বৈঠক হয় হোটেল সোনারগাঁওয়ের ৮ম তলার ৮২৪নং কক্ষ প্রেসিডেন্ট স্যুট ‘বেঙ্গলি’তে। বৈঠক শেষে হোটেল লবিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর উন্নয়নের বিষয়। ভারতের নতুন সরকার এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লি¬ষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন ভারতের নতুন সরকারকে অভিনন্দন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক টেকসই করতে মোদি সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, এ ব্যাপারে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির পক্ষ থেকে সুষমাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। ভারতের নির্বাচনের ফলাফলে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আশা সঞ্চার হয়েছে। এটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি প্রধানকে বলেছেন, এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। ভারতের ভেতরে এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার কাজ চলছে। বৈঠকে খালেদা জিয়া সুষমাকে আরও বলেছেন, তারা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ক গঠন করেছিলেন। এ ব্যাপারে আমাদের আগ্রহ বেশি। আমরা চাই সার্ক আরও শক্তিশালী হোক। সুষমা স্বরাজ সার্কের বিষয়ে বলেছেন, সার্ক উইলবি ওয়ান কমন ভয়েস। এ বিষয়টিকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। খালেদা জিয়া ভারতের নতুন সরকার সার্ককে শক্তিশালী ও টেকসই সংস্থায় পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগ্রহ ও উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সার্ক শক্তিশালীকরণে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করতে চায়। আমরা আশা করি, আঞ্চলিক বিষয়গুলো পারস্পরিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সমাধান হবে। দেশে নতুন নির্বাচন ও সংলাপ নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শমসের মবিন বলেন, এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। এসব আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দেশের জনগণই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। খালেদা জিয়াকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। শমসের মবিন বলেন, বেগম জিয়া ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান। শমসের মবিন বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের মধ্যবর্তী নির্বাচন বা সংলাপ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, সুষমার সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আপত্তি করেছিল। এসব আপত্তি অতিক্রম করেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারত যে কোনো দল নয়, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চায়, এই বৈঠক তারই প্রতিফলন। শমসের মবিন জানান, বৈঠকের ফাঁকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সুষমা স্বরাজ আলাদা কক্ষে একান্ত বৈঠক করেছেন। তবে ১২ মিনিটব্যাপী ওই বৈঠকে কি কথা হয়েছে তা তিনি জানাননি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বৈঠকে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে আজ কোনো গণতন্ত্র নেই। এই সংসদ জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করে না। ভারত একটি বৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশ। পার্শ্ববর্তী দেশে যদি গণতন্ত্র অনুপস্থিত থাকে, তাহলে এই অঞ্চলের উন্নয়ন ব্যাহত হয়। আমরা মনে করি, গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ। অন্যদিকে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং,পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আকবর উদ্দিন, ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। প্রসঙ্গত দু’বছর আগে ২০১২ সালে নয়াদিল্লি সফরে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিলো খালেদা জিয়ার। সুষমা তখন ছিলেন ভারতের লোকসভায় বিরোধী দলীয় নেতা। ফখরুল-গওহর রিজভীদের আড্ডা সোনারগাঁও হোটেলে খালেদা জিয়ার আগেই উপস্থিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড.মঈন খান, শমসের মবিন চৌধুরী, রিয়াজ রহমানসহ অন্য নেতারা। সেখানে তার আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান এবং দিল্লি¬তে নিযুক্ত হাইকমিশনার তারিক এ করিম। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাদের সাক্ষাত্ হয়। তারা একে অন্যের সঙ্গে করমর্দন এবং কুশল বিনিময় করেন। সেখানে চেয়ার টেনে বসার সময় গওহর রিজভী মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে বলেন, দূরে কেন, কাছেই বসুন। ফখরুল বলেন, আমরা কখনোই দূরে সরে যাই নি। আপনাদের কাছেই ছিলাম । আপনারাই তো দূরে সরে গেছেন। এ সময় গওহর রিজভী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দীন আহমেদকে বলেন, আসুন, একত্রে বসি। এটাও অনানুষ্ঠানিক সংলাপ। আমরাও সংলাপ সেরে ফেলি। তারা বেশ কিছুক্ষণ সেখানে গল্প ও আড্ডার মধ্য দিয়ে সময় কাটান।