লুই সুয়ারেজ বিপক্ষের খেলোয়াড়কে কামড়ানোর ঘটনায় নয় ম্যাচের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পেলেও উরুগুয়েতে তার জন্য বীরের অভ্যর্থনা অপেক্ষা করছে। এই ঘটনায় ফিফা তাকে যে শাস্তি দিয়েছে তার বিরোধিতা করেছেন কিংবদন্তী ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা, এমনকি খোদ ইতালির খেলোয়াড়টি যাকে তিনি কামড়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। সুয়ারেজের জন্য গতকাল শুক্রবার রাতে শত শত সমর্থক তার জন্য দেশটির রাজধানীর মন্টেভিডিওর কারাসকো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। এক পর্যায়ে খোদ উরুগুয়ে রাষ্ট্রপতি হোসে মুজিচাও সেখানে যান। কিন্তু বিমান আসতে দেরী হচ্ছিল বলে তিনি পরে চলে যান।
এদিকে ইতালির দলের জর্জিও চিয়েলিনিকে কামড় দেয়ায় সুয়ারেজকে দেয়া ফিফার এই শাস্তিকে মাত্রাতিরিক্ত বলছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ফ্রেড। লাঞ্ছনা বলছেন কিংবদন্তী দিয়েগো ম্যারাডোনা।
ফ্রেডের মতে, সুয়ারেজ ভুল করেছে বটে, কিন্তু এর বিপরীতে শাস্তির মাত্রাটা বেশি হয়ে গেছে, ‘সে যে ভুল করেছে এটা আপনি প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না। আমিও একজন খেলোয়াড়, সাধারণ একজন মানুষ। তাই খেলোয়াড়রা শাস্তি পেলে আমিও ব্যাপারটা ভেতর থেকে অনুভব করতে পারি।’
তিনি আরো বলেন,‘দলের হয়ে খেলার সময় চাপা উত্তেজনা থাকে, জায়গা পাওয়ার জন্য রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়। আমি মনে করি তার শাস্তি বেশি কঠোর হয়ে গেছে। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটি নিয়ে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে তর্ক করেছি। আমার মতে এই ধরনের শাস্তি একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে।’
সুয়ারেজকে অন্তত বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেয়ার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন ফ্রেড, ‘আমি মনে করি অবশ্যই তার শাস্তি হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তবে তাকে যদি ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলতে দেখতে পারতাম তাহলে আমি অনেক খুশি হতাম।’
ম্যারাডোনাও সুয়ারেজের এই শাস্তির সমালোচনা করেছেন, ‘লুইস আমরা তোমার পাশে আছি’—এমন লেখা সম্বলিত একটি টি শার্ট গায়ে এক টিভি শোতে হাজিরও হন তিনি। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী এ ফুটবলার বলেন, ‘এটা শাস্তি নামের লাঞ্ছনা। আমি এটা বুঝতে পারছি না। সুয়ারেজ কাকে মেরে ফেলেছে, যে তাকে এমন শাস্তি বরণ করতে হবে। কেন ওরা (ফিফা) তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়েছে এবং গুয়ানতানামো কারাগারে পাঠিয়েছে।’
ম্যারাডোনা আরো বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় বিশ্বকাপে খেলার সক্ষমতা অর্জনের জন্য সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে। এবারের মৌসুমে সুয়ারেজ ২৯টি গোল করেছে। অথচ তাকে এক লাথি দিয়েই তারা বিশ্বকাপের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। এটা অবিশ্বাস্য। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের কথা মনে করে দেখুন। ফাইনালে জিনেদিন জিদান কী করেছিল? এরপরও ফিফা তাকে গোল্ডেন বল পুরস্কার দিয়েছিল।’
এই শাস্তিকে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ বলেছেন সুয়ারেজের কামড় খাওয়া ইতালি ডিফেন্ডার চিয়েলিনিও। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার একমাত্র চিন্তা হল সুয়ারেজ এবং তার পরিবারের জন্য। কেননা তারা খুবই কঠিন সময়ের মুখোমুখি হবে। এসব ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে শান্তিমূলক ব্যবস্থা চাই। কিন্তু একই সঙ্গে আমি মনে করি শাস্তির প্রস্তাবিত এই ধরন মাত্রারিক্ত। আন্তরিকভাবে আমি চাই দলের খেলার সময় তাকে অন্তত সতীর্থদের পাশে থাকতে অনুমতি দেয়া হোক। কেননা এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা একজন খেলোয়াড়কে সত্যিকার অর্থেই পর করে দেয়।’
