রাজশাহীতে হঠাত্ ডায়রিয়া হাসপাতালে ভর্তি ৭০ জন

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৪, ২২:১৯
রাজশাহী মহানগরীতে হঠাত্ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দু’দিনে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৭০ রোগী ভর্তি হয়েছে। রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছে আরো অর্ধ শতাধিক ডায়রিয়া রোগী। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকসহ চিকিত্সকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে অনেকে চিকিত্সা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। চিকিত্সকরা জানান, পানিবাহিত জীবাণু ডায়রিয়ার জন্য দায়ী। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ওইসব এলাকায় স্যানিটেশনের বর্জ্য পানির সঙ্গে মিশে পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে হঠাত্ করে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এছাড়া আমের মৌসুম থাকায় অনেকে আম হাত ভালোভাবে না ধুয়েই খাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করলেই ডায়রিয়া এড়ানো সম্ভব। রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭০ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের হাসপাতালের ১৪, ১৫ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে শফিকুল (২৪), আনারুল (৩৪), সোহেল (১৭), প্রিয়া (১৭), আলামিন (১৬), আলম (২৩), সুবল (২২), মোরশেদা (১৮), আনোয়ার (২১), সুলতানা (১৬), শরিফা (১৭), মাসুম (১৮), আসমা (১৮), ইভা (২৩), নাহিদ (২১), তামান্না (২০), রফিকুল ইসলাম (৩৪), এলাহী (১৯), মনু (২৯), মিঠু (২০), ফেরদৌস (২১), সিদ্দিক (২২), বুলবুলি (২২), সাব্বির (২৩), নাজরিন (১৭), আশরাফুল (২৩), আরাফাত (২১), মাহমুদা (২০) ও আব্দুল কাইউমের অবস্থা (২৪) গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিত্সক হাসান তারিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা পর্যন্ত ৩০ নতুন ডায়রিয়ার রোগী পেয়েছেন। এছাড়া জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। এখন বৃষ্টিবাদলের মৌসুম হওয়ায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এক্ষেত্রে সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। নগরীর মণিচত্বর এলাকার একটি ছাত্রাবাসের বাসিন্দা রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী আনোয়ার আলীকে শুক্রবার সকালে ডায়রিয়ার কারণে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, তার ছাত্রাবাসের আরো কয়েকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক নাজমুল হাসান বলেন, ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিত্সার পাশাপাশি মৌসুমী ফল ও প্রচুর পরিমাণে লেবু খাওয়া বিশেষ উপকারী। শিশুদের মায়ের দুধ ও স্যালাইন বেশি করে খাওয়াতে হবে। জিংক ও ভিটামিন জাতীয় খাবারের মাত্রা বাড়াতে হবে।