গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে রেখে স্বামী-শাশুড়ির পলায়ন

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২১:১০
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় এক গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী আজিজুল মুন্সী ও তার মা নূরজাহান বেগম। শুক্রবার রাতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১০ সালে জাজিরার ফকির মাহমুদ আকন্দ কান্দি গ্রামের সুলতান ঢালীর কন্যা শিল্পী আক্তারের সাথে পাশের ইয়াসিন মাদবর কান্দি গ্রামের ইসমাইল মুন্সীর পুত্র আজিজুলের বিয়ে হয়। বিয়ের দেড় বছরের মাথায় আজিজুল বিদেশ যাওয়ার জন্য শ্বশুরের কাছে টাকা দাবি করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সুলতান ঢালী দেড় লাখ টাকা দিয়ে জামাতা আজিজুলকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠায়। সেখানে যাওয়ার পর আজিজুল ব্যবসা করার কথা বলে শ্বশুরের কাছ থেকে আরো দুই লাখ টাকা নেয়। এরপর আজিজুল তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে শিল্পীকে তার শ্বশুর-শাশুড়ি মারধর করে বাড়ি থেকে করে দেয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে এ বিষয়ে শরীয়তপুর বিচারিক হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করে শিল্পী আক্তার। মামলার পরে গত ফেব্রুয়ারিতে জাজিরা থানায় বসে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিল্পী শ্বশুর বাড়িতে ফিরে যায়। গত ৩০ মে আজিজুল দেশে ফিরে এসে আরো দুই লাখ টাকা দেয়ার জন্য শিল্পীকে চাপ দিতে থাকে। শিল্পী টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় তার উপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার শিল্পীকে দিনভর আটকে রেখে মারধর করে তার স্বামী। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার সকালে শিল্পীকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে সে মারা যায়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে হাসপাতালে থাকা তার স্বামী আজিজুল ও শাশুড়ি নূরজাহান বেগম শিল্পীর ৩ বছর বয়সী শিশু সন্তান বিজয়কে নিয়ে পালিয়ে যায়।