নেদারল্যান্ড-মেক্সিকো হাইভোল্টেজ ম্যাচ আজ

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২২:৪১
আধুনিক ফুটবলের জনক নেদারল্যান্ডস। ফুটবলে নতুন স্টাইল প্রবর্তন করেছিল নেদারল্যান্ডস। যার অনুকরণ শুরু হয়েছিল ফুটবল দুনিয়ার অনেকের কাছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, এই ফুটবল দেশটি আজও বিশ্বকাপের সেরা সাফল্য পায়নি। চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ১৯৭৪ এবং ১৯৭৮ বিশ্বকাপ ফুটবলের দুটি আসরে পর পর দুু’বার ফাইনাল খেলেছিল আধুনিক ফুটবলের জনক ডাচরা। কিন্তু বিধাতা দু’বারই তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। সেই আক্ষেপ দিনের পর দিন বয়ে বেড়িয়েছেন ডাচ ফুটবলাররা। কখনো কোয়ার্টার ফাইনাল, কখনো সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়ে ফেরত এসেছে ডাচ। বিশ্ব ফুটবলের গত আসরে ৩৬ বছর পর আবার ফাইনালের টিকিট পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। উত্সবের সব প্রস্তুতি ছিল। আরেকটি স্বপ্নের ফাইনালে উঠে ডাচরা প্রার্থনায় বসেছিলেন। এবার যদি সৃষ্টিকর্তা মুখ তুলে তাকান। নেদারল্যান্ডসের সাথে ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিলো স্পেন। কিন্তু আবার সেই ফাইনালেই ডুবে গেল ডাচ ফুটবলের তরী। এতো বছর পরও স্বপ্ন পূরণ হলো না। অথচ স্পেন মাত্র একবার ফাইনালের টিকিট পেয়েই ট্রফি জয় করেছে। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর নেদারল্যান্ডস তিনবার ফাইনাল খেলেও বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখতে পারলো না। পুরনো আক্ষেপটা আরো বেড়ে গেলো। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার সেই আক্ষেপ নিয়ে নেদারল্যান্ডস আবার ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবলে অভিযান শুরু করেছে। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে আজ। হাইভোল্টেজ ম্যাচ আজ। গ্রুপ পর্বে চিলি (২-০), স্পেন (৫-১) এবং অস্ট্রেলিয়াকে (৩-২) উড়িয়ে দিয়ে বি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও প্রতিপক্ষ মেক্সিকোকে খুব একটা সহজ মনে করছেন না কোচ লুইস ভেনগাল। তিনি বলেছেন, এই রাউন্ড হচ্ছে খাদের কিনারায় থাকার মতোই। যে কেউ পড়ে যেতে পারে। এখানে যে কেউ শক্তিশালী। যে কোনো দল ভালো খেলেও হেরে যেতে পারে। এখানে কাউকে ছোট দেখার সুযোগ নেই। আড়াই বছর হয়ে গেলো কোচ লুইস ভেনগাল দলের দায়িত্ব পালন করছেন। এই কোচ খেলোয়াড়দের অস্থি-মজ্জার সব খবরই জানেন। কিভাবে দলটাকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যাবেন তার সেই মন্ত্র জানা আছে। কারণ নেদারল্যান্ডস দলে আছেন দুর্দান্ত কিছু ফুটবলার। মেসি নেইমারদের নিয়ে যারা মজে আছেন তাদের দেখিয়ে দেয়ার মতো ফুটবলার আছেন দলে। স্নেইডার, আরিয়েন রোবেন, ফন ফার্সির মতো ফুটবলার দলে থাকলে যথেষ্ট। তাদের সাথে আছেন সাইড বেঞ্চের ফের, ডিপের মতো খেলোয়াড়। মেসি যেমন আর্জেন্টিনাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, নেইমার যেমন ব্রাজিলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, তেমনি নেদারল্যান্ডসকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন স্নেইডার, ফন ফার্সি, আরিয়েন রোবেনরা। ফন ফার্সির আছে তিন গোল। বিশ্বকাপ ফুটবলে নেদারল্যান্ডসের মতো মেক্সিকো ফুটবল দলেরও আফসোস আছে। দু’বার মেক্সিকো বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক হয়ে তারা সেরা সাফল্য পেয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। ১৯৭০ বিশ্বকাপ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপ, এই দুটি আসরে মেক্সিকোর সেরা সাফল্য ছাড়া পূর্বের আসরগুলোতে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। আর ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে শুরু করে গত ৫টি আসরে মেক্সিকো প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের পর আর এগুতে পারেনি। ৫টি আসরে দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত শক্তি ছিল মেক্সিকানদের। এবারও কি তাই হবে? প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট তো পেয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের নামটা যে বেশ শক্তিশালী। নেদারল্যান্ডসের ফুটবল শক্তিশালী হলেও কোচ মিগুয়েল হেরেরা পাত্তাই দিচ্ছেন না নেদারল্যান্ডসকে। তিনি নিজের শক্তিতে বলিয়ান। সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চান ব্রাজিলকে তাদের ঘরের মাঠেই থামিয়ে দিয়েছিলাম আমরা। আমাদের পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচের পর ব্রাজিলকে এতো কথা শুনতে হয়েছিল। ভাগ্য ভালো স্কোলারীর চাকরিটা যায়নি।’ ভালো পারফরম্যান্স করতে না পারার কারণে মেক্সিকো দল থেকে চার কোচকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে ক্লাব ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এনে দেয়ার পর জাতীয় দলের চাকরি পেয়েছেন মিগুয়েল হেরেরা। গ্রুপ পর্বে তার দলের পারফরম্যান্সেও মেক্সিকান ফুটবল কর্মকর্তারা যেমন খুশি, তেমিন মেক্সিকানরাও দারুণ চনমনে আছেন ব্রাজিলে এসে। ৯৪ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা এই কোচ মিগুয়েল হেরেরা বলেন, সেদিন ব্রাজিল আমাদের হাত থেকে ফসকে গিয়েছিল। ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ এবং ক্যামেরুনের অদম্য শক্তির দলকে ১-০ গোলে হারিয়েছি। বললেন, আমরা যদি ম্যাচ জিতে যেতাম, তাহলে বি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে খেলতাম। ফোর্তেলেজার মাঠে আমরা সেরা প্রমাণ করে দেবো। মেক্সিকান কোচের দম্ভ কতটুকু টেকে আর নেদারল্যান্ডসের কোচ লুইস ভেনগাল এই বাধাটি কিভাবে উতরে যান, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় ফুটবল অনুরাগীরা।