‘দেশের সরকার, মন্ত্রী-এমপি, প্রশাসন কেউ নাই বাহে। হামরাগুলা এখন কোথায় যাই। হামাকগুলাক এ পর্যন্ত কাইয়ো দেইকপার আইসে নাই। তোমরায় প্রথম আসলেন ছবি তুলিবার। ভালো করে ছবি তুলে নিয়া সরকার ও উপরের বড় কর্তাকে গুলাক জানান। হামার আর থাকা খাওয়ার জাগা নাই।’ বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বললেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দের মন্দির এলাকার আবাসন প্রকল্পের মনছুর আলী (৭০) ও করিমা বেগম (৫০)। তিস্তার ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে ৪০টি পরিবারের বসতবাড়ি। ২০টি পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। শনিবার পর্যন্ত ভাঙ্গনকবলিত পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি-বেসরকারিভাবে কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি।
সরেজমিনে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রতি, পাড়ামৌলা, তৈয়বখাঁ, বুড়িরহাট, রামহরি, রতিদেব, সোমনারায়ণ ও হাসারপাড় এলাকায় আড়াই শতাধিক ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে ডাংরারহাটের ৬নং স্পার বাঁধটি প্রবল পানির স্রোতে দেবে গেছে। এদিকে তিস্তার তীরবর্তী পরিবারগুলোর কাটছে নির্ঘুম রাত। কুড়িগ্রাম পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু তাহেরের সঙ্গে এসব বিষয়ে তাঁর মুঠোফোনে কথা হলে তিনি তিস্তার ভাঙ্গনের কথা স্বীকার করে বলেন, দায়িত্ব প্রাপ্ত এসও আবুল কালাম সরেজমিন ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে রিপোর্ট পাঠিয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই নদী ভাঙ্গন রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. ছানাউল্লা নুরী তিনদিন পূর্বে ৪৫টি পরিবারের তালিকা তৈরী করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাজেদুর রহমান বলেন, দু’একদিনের মধ্যে ভাঙ্গনকবলিত এলাকাসমূহ পরিদর্শনে যাবেন।
