‘মোটর সাইকেল চুরির জন্য রয়েছে এলাকা ভাগ’

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২২:৫৫
‘দলনেতার নির্দেশে মোটরসাইকেল চুরি করি। বিক্রির দায়িত্ব দলনেতার। আমরা নির্ধারিত হাতে টাকা পাই। মোটরসাইকেল চুরির জন্য ভাগ করে দেয়া হয়েছে এলাকা। নির্দিষ্ট গ্রুপই এলাকার জন্য নির্ধারিত। অন্য গ্রুপ সেখানে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। চুরির পর দলনেতার নির্দেশমত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট তুলে গাড়ির পেছনে ‘এএফআর’ অথবা ‘প্রেস’ স্টিকার লাগিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দিতাম। এরপর দলনেতা নির্ধারিত হোটেলে গিয়ে আমাদের টাকা দিয়ে আসতো। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে মোটরসাইকেল চোর দলের চার সদস্য। এরা হচ্ছেনঃ আসাদুল¬াহ আসাদ, নূরুল ইসলাম সুলতান, আনোয়ার ও কাইয়ুম। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ শুক্রবার রাতে তাদেরকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি মোটরসাইকেল ও ৮টি নকল চাবি। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) বাবুল আক্তার বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তবে গতকাল রিমান্ড শুনানি হয়। আদালতের নির্দেশে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। দলনেতাসহ অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী। তারা জানিয়েছে, দলনেতার নির্দেশমতই তারা মোটরসাইকেল চুরি করে। এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রেও দলনেতার অনুমতি নিতে হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, দলনেতার নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মার্কেট, ক্লিনিক, ডাক্তারের চেম্বার ও রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান নিতো ওরা। লক্ষ্য থাকতো মোটরসাইকেল আরোহীদের দিকে। কেউ মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে কিছুক্ষণের জন্য অন্য কোথাও গেলেই হলো। নকল চাবি দিয়ে মোটর সাইকেল স্টার্ট করে চম্পট দিতো সংঘবদ্ধ চোরের দল। সামান্য কিছু দূর যাওয়ার পর পুলিশের ঝক্কি থেকে বাঁচার জন্য মোটরসাইকেলের সামনে-পিছনে লাগিয়ে নিতো ‘প্রেস’ অথবা ‘এএফআর’ লেখা স্টিকার। এরপর দলনেতার নির্দেশে তা পৌঁছে দেয়া হতো নির্দিষ্ট গন্তব্যে। একেকটি মোটরসাইকেল চুরির বিনিময়ে তারা পেতো ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। গ্রেফতারকৃত নূরুল ইসলাম সুলতান জানায়, সে তার সহযোগী আসাদুল¬াহ আসাদ, কাইয়ুম, আনোয়ার, রিয়াজ, ঢাকাইয়া নজরুল, সোহেল, জুয়েল নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে। কখনো বানানো চাবি দিয়ে তালা খুলে আবার কখনো লক ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে যায়। কাইয়ুম ও আনোয়ার গাড়িগুলো নির্দিষ্ট ক্রেতা জাবেদ, সুমন ও জনিদের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে যোগাযোগের মাধ্যমে দিয়ে আসে। কাইয়ুমের বাসায় চুরি করা মোটরসাইকেলগুলো সাময়িকভাবে রাখা হয়। নূরুল ইসলাম জানায়, তাদের চক্রের দলনেতা জাবেদ ও সুমন। তারাই তাদেরকে মোটরসাইকেল চুরির জন্য বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পাঠায়। একেকটি চুরি করা মোটরসাইকেলের বিনিময়ে তারা ১০/১৫ হাজার টাকা পায়। উদ্ধারকৃত নম্বরবিহীন ওয়ালটন মোটরসাইকেলটি সোহেল ও রিয়াজ বাঁশখালী এলাকা থেকে সপ্তাহ তিনেক আগে চুরি করে নিয়ে আসে। বর্তমানে ওই মোটর সাইকেলটির সাহায্যে তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে।