বাজেট পাস আজ

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২২:৫৫
আজ রবিবার জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট পাস হচ্ছে। এর আগে গতকাল সংসদে অর্থবিল পাস হয়েছে। নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবারও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখার ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অবশ্য শুধু আবাসন খাতে বিনিয়োগের শর্তে এই সুযোগ রাখার কথা জানান তিনি। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। পরে আর্থিক প্রস্তাবলী কার্যকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী ‘অর্থবিল-২০১৪’ পাসের প্রস্তাব করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিরোধী দলের উপস্থিতিতেই অর্থবিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক যে বিভাজন চলছে, সেটি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। বাজেট আলোচনায় অনেক সংসদ সদস্য খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানোর বিষয়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেটির জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টিকে সহায়ক পরিস্থিতিতে নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বিদেশি সাহায্যের ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ লুটপাট হয়ে যায় বলে অনেকের সমালোচনা নাকচ করেন তিনি। আবাসনে কালো টাকা থাকছে, কর শিথিল: আবাসন খাতে বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত থাকছে। তবে সরকারের ট্রেজারি বিলে এই সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া প্রযোজ্য হারে কর ও এর উপর আরো ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে যে কোন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে। এছাড়া আবাসন খাতের করে কিছুটা শিথিলতা এসেছে। ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রতি বর্গফুটের কর ৯০ টাকার স্থলে প্রতি বর্গমিটারের কর ৬শ’ টাকা করা হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবারও রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আবাসন খাতে প্রতি বর্গমিটারে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর প্রদান করলে বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগ মেনে নেয়ার বিধানটি কর প্রদান পদ্ধতিতে সরলীকরণমাত্র। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটেও আবাসন খাতে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার বিধান ছিল। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আয়কর অধ্যাদেশে কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে কারো কারো মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। অর্থ আইন-২০১১ এর মাধ্যমে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিলে বিনিয়োগকৃত অর্থ বিনা প্রশ্নে মেনে নেয়ার বিধান করা হয়। বাস্তবে এ বিধানের সুযোগ করদাতারা গ্রহণ করেননি। এই সুযোগ রাখতে চাই না বিধায় এ সংক্রান্ত বিধানটি বাতিলের প্রস্তাব করছি। তিনি বলেন, কেউ অতীতে তার আয়ের ওপর সঠিকভাবে কর পরিশোধ না করলে পরবর্তীতে প্রযোজ্য কর এবং জরিমানা পরিশোধ করে কর অনারোপিত আয়ের ওপর কর পরিশোধ করতে পারে। সেক্ষেত্রে কর দাতাকে কোনো ছাড় দেয়া হয়নি। প্রচলিত হারেই তাকে জরিমানাসহ কর দিতে হয়। এ ধরনের সুযোগ কর প্রদান ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রক্ষার্থে প্রয়োজন বিধায় এ দুটি বিধান অব্যাহত রাখা যায়। প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন বাজেট পেশের পরদিন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন ‘এই মুহূর্ত থেকে সব খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করা হলো।’ শেয়ারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স প্রত্যাহার:প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের লাভের ওপর করারোপের (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) যে প্রস্তাব করা হয়েছিল তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট প্রস্তাবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্জিত মূলধনের আয়কে করমুক্ত রেখে ১০ লাখ টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৩ শতাংশ এবং ২০ লাখ টাকার পরবর্তী অংকের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স আরোপের কথা বলেছিলেন। এছাড়া শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত শেয়ার লভ্যাংশ করমুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে করমুক্ত শেয়ার লভ্যাংশ ১০ হাজার টাকা। বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী এটি ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করার কথা বলেছিলেন। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ৩০ শতাংশ বা এর বেশি হারে কর দিলে বিদ্যমান ১০ শতাংশ কর রেয়াত অব্যাহত থাকবে। অর্থমন্ত্রী এই রেয়াত প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারের বিকাশ ও বিনিয়োগকে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা পুনর্বহাল রাখার সুপারিশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করে বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা পুনর্বহাল রাখার জন্য সংসদকে অনুরোধ করছি। মোবাইল ফোন আমদানি ও উত্পাদনে সারচার্জ :মোবাইল ফোন আমদানি ও উত্পাদন পর্যায়ে ১ শতাংশ হারে সারচার্জ বা বাড়তি কর বসছে। তবে মোবাইল ফোন সেট আমদানি শুল্ক বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৫ শতাংশ এবং আমদানিতে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী অর্থবিলের উপর আলোচনায় এ বিষয়ে সুপারিশ করলে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়টি অর্থবিলে অন্তর্ভুক্ত করেন। অবশ্য ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বলবত্ থাকবে। এর আগে গত ৫ জুন বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী মোবাইল ফোন সেটের আমদানিতে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর ও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বসানোর প্রস্তাব করেন। সাবান, ডিটারজেন্ট ও গ্লুকোজে প্রস্তাবিত শুল্ক প্রত্যাহার :সাবান, ডিটারজেন্ট ও গ্লুকোজে বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত অর্থ বিলে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া তরলীকৃত গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের উপর প্রস্তাবিত শুল্কও প্রত্যাহার হবে।