ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ রমজান মাসে রাজধানীর ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা চেয়ে বলেছেন, দয়া করে কেউ রাস্তায় বা ফুটপাতে ইফতারির দোকান বসাবেন না, কেউ ফুটপাত থেকে ইফতারির খাবারও কিনবেন না। ফরমালিনের বিরুদ্ধে পুলিশের চেকপোস্ট ও মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে মিডিয়া (ডিএমপি) সেন্টারে রমজানের নিরাপত্তা নিয়ে ডিএমপির প্রস্তুতি সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি তুলে ধরেন ডিএমপির নেয়া নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীতে ডিএমপির ভেজাল বিরোধী অভিযান স্থায়ী করা হচ্ছে। কাঁচাবাজারে ফরমালিন বুথ বসানোরও পরিকল্পনা আছে। পুলিশের ফরমালিনবিরোধী অভিযানের ফলে ফরমালিন কম পাওয়া যাচ্ছে। কমিশনার আশা প্রকাশ করেন, ফরমালিন প্রতিরোধে সরকার কঠোর আইন করবে।
রাজধানীতে হাজার হাজার মোবাইল ব্যাংক এজেন্ট আছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই উদ্যোগ টাকা লেনদেনকে গতিশীল করেছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। এজেন্টদের বিপুল অংকের নগদ টাকা পরিবহন করতে হয়। এ ব্যাপারে কমিশনার তাদেরকে নগদ টাকা পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহবান জানান। এরপর পাশাপাশি বাসা-বাড়ি , ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা, নিরাপত্তা এলার্ম এবং গাড়িতে জিপিএস ব্যবহারের আহবান জানান ডিএমপি কমিশনার। রমজানে ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকগুলোকে বড় অংকের টাকা লেনদেনের আগে পুলিশের সহায়তা চাওয়ার আহ্বান জানান কমিশনার। তিনি বলেন, ব্যাংক এবং ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করব, বড় ধরনের টাকা লেনদেন করার পূর্বে তারা যেন নিকটস্থ থানাকে অবহিত করেন। অজ্ঞান পার্টির তত্পরতা প্রতিরোধ, জাল টাকার বিস্তার রোধেও পুলিশ রজমানে সর্তক থাকবে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার ব্যবসায়ীদের উদ্দ্যেশে বলেন, বিপণী বিতানগুলোর ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করবো তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখবেন। রাখবেন জাল টাকা সনাক্ত করার মেশিন।
রজমানের শুরুতে নগরবাসী মাসের পুরো বাজার না করার আহবান জানিয়ে কমিশনার বলেন, এক সঙ্গে মাসের বাজার করা হলে বাজারে চাপ পড়ে। ফলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়।
রজমানে রাজধানীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমজানে বেশিরভাগ মানুষ একসাথে ঘরমুখো হয়। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ডিএমপি কমিশনার আহ্বান জানান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শপিংমল এর সময়সূচি প্রণয়নে। তিনি বৃষ্টির পানি জমে শহরের যেসব খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে তা মেরামত করার উদ্যোগ নেবার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে আহ্বান জানান।
নগরবাসীর নিরাপত্তার ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমজানে নগরবাসী যেন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে, নির্বিঘ্নে শপিং করতে পারে, তারাবী ও ফজর নামাজ পড়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে এ লক্ষ্যে ডিএমপি নগরবাসীর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এ জন্য কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম বাড়ানো হবে। মোতায়েন থাকবে সাদা পোশাকেও পুলিশ ।
