সিলেট মহানগর ছাত্রদল নেতা জিল্লুল হকের প্রথম নামাজে জানাজা শনিবার বাদ যোহর দরগাহ-ই- হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার লাশ সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার পালপুরে নিজ গ্রামে পঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে বাদ আছর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
প্রথম জানাজায় বিএনপি, ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে গতকাল শনিবার সকালে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে নিজ দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায় নগরীর পাঠানটুলায় খুন হন জিল্লুল হক। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ ধারালো অস্ত্রসহ দুই ছাত্রদল কর্মীকে গ্রেফতার করে।
এদিকে শনিবার বিকাল ৫ টা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। কোতোয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফনের পর নিহতের পক্ষে মামলা দায়ের করা হবে। জিল্লু খুনের ঘটনায় সিলেটে বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলে আতংক ও চাপা উদ্বেগ বিরাজ করছে। জিল্লু খুনের পর থেকে এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে কড়া পুলিশ টহল বসানো হয়েছে।
যে কারণে জিল্লু খুন: ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশে সবসময় অগ্রভাগে থাকতেন গোবিন্দগঞ্জ কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি ও মহানগর ছাত্রদলের নেতা জিল্লুল হক জিলু। কয়েক মাস আগে কারাবরণও করেন। তার অপরাধ ছিল ছাত্রদলের মিজান গ্রুপ ছেড়ে মিরাবাজার গ্রুপে যোগ দেয়া। এই গ্রুপ বদলই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল জিলুর জীবনে-এমন কথা সংশ্লিষ্টদের মুখে মুখে। দীর্ঘদিন থেকে জিল্লুল হক ছাত্রদল মিজান-জিল্লুল গ্রুপ করতেন। সুবিদবাজার কেন্দ্রিক ছাত্রদলের একটি উপ গ্রুপও ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। ওই উপ গ্রুপের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি বিএনপি ও ছাত্রদলের সকল কর্মসূচি পালন করতেন।
সূত্র জানায়, গত অক্টোবর মাসের দিকে তিনি ওই গ্রুপ ছেড়ে যোগ দেন মিরাবাজার জামান গ্রুপে। মিরাবাজার গ্রুপের হয়ে তিনি তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। কিন্তু গ্রুপ বদলের বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারেনি মিজান গ্রুপের ক্যাডাররা। গ্রুপ বদলের পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে পাঠানটুলায় তাকে কুপিয়ে খুন করা হয়। এ জন্য প্রতিপক্ষ ক্যাডারদের দায়ী করা হচ্ছে। হামলার সময় জিল্লুলের সাথে ভুলন কান্তি তালুকদার নামে এক কর্মী তার সাথে ছিলেন।
ছাত্রদল নেতাদের বাসায় আগুন, গাড়ি ভাঙচুর
জিল্লুল হক খুনের ঘটনায় শুক্রবার রাতে নগরীর কয়েকজন ছাত্রদল নেতার বাসায় আগুন ও গাড়ি ভাংচুর করা হয়। নগরীর কয়েক স্থানে সড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাংচুর করেছে জিলুর সহকর্মী ছাত্রদল কর্মীরা। শুক্রবার রাত ৮ টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনাগুলো ঘটে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুল কাদির শাহীর সুবিদবাজার লন্ডনী রোডের ৬ নং বাসায় একটি প্রাইভেট কারে আগুন দেয়া হয়। একই সময় জামাল আহমদ ওরফে কালা জামালের বাসায় আগুন দিলে বারান্দায় রাখা দু’ টি মোটর সাইকেল ও একটি বাই সাইকেল আগুনে পুড়ে যায়। পরে বনকলা পাড়াস্থ ছাত্রদল নেতা এমাদের বাসায় কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। তখন সুবিদবাজারসহ সিলেট-সুনামগঞ্জ রোডের বিভিন্ন স্থান অবরোধ করে প্রায় ২০-২৫ টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়।
