ব্রিটেনে ৬০ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষার্থী লাইসেন্স স্থগিত

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৪, ২২:৫৮
যুক্তরাজ্যে ৫৭টি বেসরকারি কলেজ এবং ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইসেন্স স্থগিত করেছে সরকার। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠান নতুন করে আর কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি নিতে পারবে না। বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেয়া নিয়ম যথাযথভাবে মানতে ব্যর্থ হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর আগে সরকারি এক তদন্তে ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের অন্তত ৪৮ হাজার সনদ জালিয়াতির ঘটনা উঠে আসে। তদন্তে দেখা যায়, সনদ জালিয়াতির সাথে জড়িত শিক্ষার্থীরা অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে ভিসা বাড়িয়েছে। ঐ ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসব শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়েছে। গত মঙ্গলবার অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী (ইমিগ্রেশন মিনিস্টার) জেমস ব্রোকেনশায়ার পার্লামেন্টে এসব সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গ্লিন্ডর ইউনিভার্সিটির ‘হাইলি ট্রাস্টেড’ স্ট্যাটাস বাতিল করা হয়েছে। ওয়েস্ট লন্ডন এবং বেডফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটিতে নতুন কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব ইউনিভার্সিটির বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির লাইসেন্স বাতিল করা হবে কি-না বিষয়টি তদন্তাধীন। ৫৭টি বেসরকারি কলেজের কোনটিই আর নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। এসব ইউনিভার্সিটি এবং কলেজগুলোতে হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছেন। কোর্স ফি তুলনামূলক কম হওয়ার কারণে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ এসব কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি। ইউরোপের বাইরের দেশগুলো থেকে প্রতিবছর যে পরিমাণ লোক ব্রিটেনে আসে তাদের সিংহভাগ আসে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা কিভাবে ইমিগ্রেশন ফাঁকি দিয়ে ভিসা বাড়িয়ে নেয় এবং বছরের পর বছর ব্রিটেনে থেকে যায়- তা নিয়ে বিবিসি গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র প্যানারামা প্রচার করে। এতে দেখা যায়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ইংরেজি না জানা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট পেয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণীর কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান এবং যারা ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা নেয় তারাই অর্থের বিনিময়ে এ সুযোগ করে দিচ্ছে। এমনকি তারা ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টও বানিয়ে দেয়। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর থাকার কারণে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষও এদের ভিসা দিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা পেতে হলে ইংরেজি ভাষার পারদর্শিতার প্রমাণ দেয়া আবশ্যক এবং কোর্স ফি ও বসবাসের খরচ বাবদ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তাদেব ব্যাংক হিসেবে জমা থাকতে হয়। বিবিসি’র এমন অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রের পর সরকার পুরো বিষয়টিতে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিসা বাড়াতে গিয়ে অন্তত ৪৮ হাজার শিক্ষার্থী ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার সনদ জালিয়াতি করেছে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন জালিয়াতিতে সহায়তা দিয়েছে অথবা ভুয়া শিক্ষার্থীদের ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।