পরিবারের সবাই এখন বিশ্বকাপে

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৪, ২০:০৯
মাত্র চেয়ার ছেড়ে উঠে পানি খেতে গিয়েছি, এসময়ই আশেপাশের সব বাড়ি থেকেই গো-ও-ও-ও-ল বলে চিত্কার। বুঝলাম অসাধারণ এক মুহূর্ত হারালাম। ছুটে গেলাম টিভির সামনে। সেদিন ছিল আর্জেন্টিনার ম্যাচ। আমার স্বামী ব্রাজিল আর আমার মা, ছেলে আর্জেন্টিনার সমর্থক। ঘর থেকে আমার ছেলে অনিকের হুইসেল, আর মেসি, মেসি... চিত্কার শুনেই বুঝেছিলাম কোন দল এবং কোন খেলোয়াড় গোল করল। আর্জেন্টিনার জার্সি পরে অনিকের বাবাকে ঘিরে নাচের ছবি তুলে রাখলাম। আর ওর বাবার শুকনো মুখের ছবি। এসব ছবিই স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে। ফ্ল্যাটের সবাই মিলে ছাদ থেকে আর্জেন্টিনার এক বিশাল পতাকা ঝুলিয়েছে। বাড়ির আরেক পাশে ব্রাজিলের পতাকাও ঝুলছে। যত রাতই হোক অনিকের খেলা দেখা চাই। এর মাঝে একদিন বাবা, ছেলে মিলে টিএসসিতে খেলা দেখতেও গিয়েছিল। বিশ্বকাপ ঘিরে পুরো পরিবারে এক উত্সব শুরু হয়েছে। রোজ ফুটবল খেলা দেখতে দেখতে নানা খাওয়া-দাওয়াও চলছে। অনেক সময় মনে হয় আমরা যেন ব্রাজিলেই আছি। বাড়িজুড়ে খেলোয়াড়দের ছবি আর স্টিকার। পরিবারের সবাই একসাথে হেসে-খেলেই কাটছে আমাদের ফুটবল বিশ্বকাপ। এভাবেই তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন হেনা আক্তার। তিনি এখন ব্র্যাকে রয়েছেন। বিশ্বকাপ ঘিরে শিশুদের উত্সব-আনন্দ সবচেয়ে বেশি। বড়দেরও কোন অংশে কম নয়। বাসার ছাদে, গাড়িতে, বারান্দায় সবখানেই পতাকা আর পতাকা। কোন দলকে কে সাপোর্ট করে, এ নিয়ে স্কুলের বন্ধুদের মাঝে যেমন হৈ-চৈ, তেমনি বাড়িতেও। বিশ্বকাপ এবার কে জিতবে তা ঘিরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সবার বিশ্বাস তার পছন্দের দলই জিতবে। এই বিশ্বকাপে শিশুদের মনের অনুভূতি জানতেই কথা হচ্ছিল সেতুর সাথে। ওরা দুই ভাই-বোন। দু’ভাই-বোনে সব সময়ই প্রতিযোগিতা। বাড়িতে ঢুকে দেখি বারান্দায় একসাথে চারটি পতাকা ঝুলছে। একটার চেয়ে একটা বড়। আমি জানতে চাইলাম কোন দল ওরা সাপোর্ট করে। সেতুর উত্তর, আমি ব্রাজিল। আর অনন্ত বলল, আমি জার্মানী। আর বাবা-মা? অনিক বলল, মা আমার দলে। সেতু বলল, বাবা আমার দলে। এসময় পাশ থেকে হাসতে হাসতে মা বলে উঠল, আমি দু’জনের দলেই। অনেক সময় তারা ঘরের ড্রইং রুমকেই খেলার মাঠ বানিয়ে নিচ্ছে। আর খেলা চলছে। টেবিল ভর্তি খাবারের আয়োজন। জানতে চাইলাম কি উপলক্ষ? সোমা বলল, ওরা চাচাতো ভাই-বোন সবাই মিলে সারারাত জেগে খেলা দেখবে। প্রথম সাময়িকী পরীক্ষা শেষ এবং বিশ্বকাপ উপলক্ষেই তাদের পার্টি। দেখি বাবা-মাও তার ছেলে-মেয়ের সাথে বিশ্বকাপের নেশায় আর আনন্দে মশগুল। বাবা-মাকেও পরতে হয়েছে জার্সি। মাটিতে বিছানা করে পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন। শুধু খেলাটা শুরু হওয়া বাকি। অনন্তর হাতে ঢোল, বাবার ঠোঁটে বাশি। ওর বাবার কাছে তার বিশ্বকাপের অনুভূতি জানতে চাইলাম। তিনি বলেন, আমি ব্যাংকার, সকালে উঠে অফিস যেতে হয়। তবু কোন খেলা দেখাই বাদ দেইনি। একটি গোল হওয়ার সাথে সাথেই ফেসবুকের পাতা ভরে ওঠে নানা অনুভূতি আর মন্তব্যে।