সকালে প্রশ্নপত্র সেট নির্ধারণের সুপারিশ

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৪, ২২:২০
প্রশ্নপত্র প্রণয়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত, পরীক্ষার দিন সকালে লটারির মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সেট নির্ধারণ, বেশি সংখ্যক সেটের প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ মূল চারটি সুপারিশ করে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গঠিত কমিটি শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) সোহরাব হোসাইন। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের সনাক্ত করা হয়েছে কিনা, তা এড়িয়ে যান শিক্ষামন্ত্রী। সূত্র জানিয়েছে, দুই দফায় সময় বৃদ্ধি করা হলেও প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত রয়েছে এমন নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করতে পারেনি কমিটি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের সাড়ে ৫ বছরের ইতিহাসে এ প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি একটি কালো দাগ। তবে এ বিষয়টিকে আমরা সহজভাবে নেইনি। এ জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করে তদন্ত কাজ শেষ করেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, ব্যবস্থাপক, প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে কথা বলে সুপারিশগুলো করা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করবো। পরবর্তী সময়ে আপনাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবো। সোহরাব হোসাইন বলেন, প্রতিবেদনে ইন্টারনেট নির্ভর প্রশ্নপত্র প্রণয়নে প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর জোর দেয়া হয়েছে, সময় লাগলেও এজন্য একটি অবকাঠামো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটি সফটওয়ার তৈরি করতে হবে। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ইন্টারনেট সংযোগ, বিদ্যুত্ থাকতে হবে এবং প্রিন্টারসহ ডিজিটাল প্রিন্টিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঝুঁকি থাকবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার দিন সকাল বেলা সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে কোন প্রশ্নপত্রের কোন সেটে পরীক্ষা হবে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁস হবে না, কারণ সেট নির্ধারণের আগে কেউ জানতেই পারবে না। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ছাপা হওয়া প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলে যাওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা কমিয়ে আনতে হবে। চলতি বছর ১০ এপ্রিল প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় গত ঢাকা বোর্ডে এইচএসসি ও ডিআইবিএসের (ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিস) ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ওই দিনই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সাত সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় সোহরাব হোসাইনকে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন- জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন করে যুগ্মসচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (কলেজ) ও যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও কলেজ) এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক (বিদ্যালয়)। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পরে এ কমিটি দুই দফা সময় বাড়িয়ে নেয়। এছাড়া ঢাকা শিক্ষাবোর্ডও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ইতিমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।