স্কোলারির সঙ্গে কয়েক মিনিট

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৪, ২২:২৫
শনিবার ব্রাজিল-চিলি ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকরা দ্রুত বেরিয়ে গেলেন ডেটলাইন ধরবেন বলে। ব্রাজিলের কোচ স্কোলারি তখন মঞ্চের পাশে বেরিয়ে যাওয়ার গেটের সামনে। দ্রুত উঠে গিয়ে তার সাথে একটা ছবি তোলার কথা বলে দাঁড় করালাম স্কোলারিকে। অনুরোধ করলাম কথা বলা যাবে কিনা। তিনি সংবাদ সম্মেলন পরিচালনাকারী মিডিয়া অফিসারের সহযোগিতা নিয়ে কথা বললেন। কয়েক মিনিট কথা হল স্কোলারির সাথে। ফাঁকে ফাঁকে ফটোর জন্য পোজ দিলেন সাংবাদিকদের সাথে। সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলতেই স্কোলারি প্রথমেই জানতে চাইলেন, ‘প্রেস কনফারেন্সে তুমি যেন কোন্ দেশের নাম বলেছিলে?’ বললাম, ‘বাংলাদেশ।’ প্রশ্ন করলেন, ‘কোথায় এই দেশটা? নাম তো শুনেছি বলে মনে হচ্ছে। এটা কি এশিয়াতে পড়েছে?’ বললাম, ‘হ্যাঁ দক্ষিণ এশিয়ায়।’ স্কোলারি বললেন, ‘আর্জেন্টিনা বোধহয় বাংলাদেশে খেলতে গিয়েছিল। বাংলাদেশের ফুটবলের অবস্থা এখন কেমন? তোমরা কী বাছাই পর্বে খেলো?’ জানতে চাইলেন বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কেও। সংক্ষেপে দেশের ফুটবলের চিত্র তুলে ধরা হল স্কোলারির সামনে। বাংলাদেশে ব্রাজিলের কোটি সমর্থক আছে এটা স্কোলারির যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। একটা দেশের মানুষ আরেকটা দেশকে এভাবে ভালোবাসে কিভাবে। তাকে জানালাম, বিশ্বকাপ খেলার সময় আমাদের দেশের বিভিন্ন বাড়ির ছাদে ব্রাজিলের পতাকা ওড়ে। এ কথা শুনে স্কোলারি রীতিমত বিস্ময় প্রকাশ করলেন। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় স্কোলারির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার দুই কোচিং স্টাফ ও ফিফার এক মিডিয়া অফিসার। স্কোলারি কিছু বলছেন না, অথচ ফিফার মিডিয়া অফিসার তাড়া দিচ্ছেন তাকে। ভারতীয় এক সাংবাদিক তো তাকে বাংলায় বলেই ফেললেন, ‘আরে রাখো না দাদা। একটা ছবি তুলতে দাও।’ সুযোগ পেয়ে পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন ব্রাজিলের এক নারী সাংবাদিকও। চলছে ছবি তোলার ধুম। আমি আবার কথা বলার সুযোগ খুঁজলাম। ফিফার মিডিয়া অফিসারকে অনুরোধ করলাম। তার সহযোগিতা নিয়ে স্কোলারির কাছে জানতে চাইলাম, ‘আজকে (শনিবার) ব্রাজিল এমন খেললো কেন?’ স্কোলারি বললেন, ‘তুমি তো দেখেছো। তুমি বলো না কেন এমন খেললো।’ আমি বললাম, ‘নেইমার ব্যথা পাওয়ার পর পা বাঁচিয়ে খেলেছে।’ স্কোলারি বললেন, ‘না না তা হবে কেন।’ পাল্টা প্রশ্ন করলাম, ‘খেলোয়াড় চেঞ্জ করেও তো কোনো পরিবর্তন দেখা গেলো না।’ স্কোলারি সংবাদ সম্মেলনের কথাই পুনরাবৃত্তি করলেন, ‘ইচ্ছে হয়েছিল সবই চেঞ্জ করে ফেলি। আসলে আমাদের উপর ব্রাজিলের মানুষের প্রত্যাশাটা বেড়ে গেছে। দলে সবাই তো সিনিয়র ফুটবলার না। এতো বড় আসরে দলের সবাই একই রকম চাপ নিতে পারে না।’ কথাটা শেষ হওয়ামাত্রই ফিফার মিডিয়া অফিসার স্কোলারিকে সরিয়ে নিলেন। প্রত্যাশা ছিল না ব্রাজিলের ফুটবল কোচ লুইস ফিলিপ স্কোলারির সাথে কথা বলা যাবে। কারণ সাধারণত তারা সংবাদ সম্মেলন শেষে এক মিনিটও সেখানে অবস্থান করেন না। যাই হোক, একটু দাঁড়াতেই স্কোলারির সাথে কয়েক মিনিট কথা বলার সুযোগ পেয়ে গেলাম।