জাতীয় সংসদে বাজেট পাস

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৪, ২২:২৭
জাতীয় সংসদে গতকাল ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়েছে। নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৪ সংসদে গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই বাজেট পাস করা হয়। বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৬টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবি প্রস্তাবগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। প্রধান বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যগণ মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে মোট ২৪৮টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ৪টি দাবির ওপর আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়। এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৪ পাসের মাধ্যমে ২০১৪-১০১৫ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন। এবারের বাজেটে, ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এর আগে গত ৫ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। গত ৮ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও অন্যান্য মন্ত্রীসহ সরকারি ও বিরোধীদলের ২৬৫ জন সদস্য ১৬ কার্যদিবসে মোট ৬৩ ঘণ্টা ৬ মিনিট মূল বাজেট ও সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এর আগে শনিবার সংসদে অর্থবিল ২০১৪ পাস করা হয়েছে। বিলে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করার বিধান অব্যাহত রাখা হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু কর হ্রাস করা হয় এবং কর অবকাশ বহাল রাখা হয়েছে । বাজেটে বিদেশি অনুদানসহ মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬০ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ। বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ১৯১ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দসহ ৮৬ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে নতুন অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতির লক্ষ্য রয়েছে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ২৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ৪৩ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা সংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে, যা জিডিপির ৩ দশমিক ২ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ উেসর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ১২ হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে ২৫.১৬ শতাংশ, এর মধ্যে মানব সম্পদ খাত-শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট খাতে ২১.৫৮ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামো খাতে ৩০ দশমিক ১৫, সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৪ দশমিক ৬৯, যোগাযোগ খাতে ৯ দশমিক ২৪, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। এছাড়া সাধারণ সেবা খাতে ২৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ৩ দশমিক ৪, ঋণ পরিশোধ বাবদ ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ঋণদান ও অন্যান্য খাতে অবশিষ্ট ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।