বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গিলে খেয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীর আবাসিক এলাকাগুলোকে। সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত আবাসিক এলাকাগুলোকে বুঝাই যায় না এগুলো আদৌ আবাসিক এলাকা কি-না।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আগ্রাবাদ সিডিএ, আবাসিক এলাকা, বহদ্দারহাট সিডিএ আবাসিক এলাকা ও সিডিএ কর্তৃক অনুমোদিত আবাসিক এলাকা নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, উত্তর খুলশী সোসাইটি এবং নগরীর ও.আর নিজাম রোড আবাসিক এলাকা, দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকা পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা ছোট-বড় অসংখ্য ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসিক এলাকা ও ভবন শুধুমাত্র নামেই আবাসিক এলাকা ও ভবন। সিডিএ’র খাতায় থাকা পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমনকি আবাসিক এলাকার কিছু আবাসিক প্লট রাতারাতি শ্রেণী পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক প্লট করা হচ্ছে। স্বয়ং সিডিএ এ সকল প্লটের শ্রেণী পরিবর্তন করছে। ফলে দেখা যায়, পাশাপাশি দু’টি প্লটের একটি আবাসিক প্লট আবার অপরটি বাণিজ্যিক প্লট। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকেই ক্ষমতা ও অর্থের জোরে আবাসিক প্লটকে বাণিজ্যিক প্লটে রূপান্তর করে নিচ্ছে। এর ফলে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মিত হওয়ার ফলে মিশ্র পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নগরীর প্রায় সকল আবাসিক এলাকায় এবং আবাসিক ভবনে শিল্প কল-কারখানা, স্কুল-কলেজ, মার্কেট, হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেসেজ পার্লার, বিউটি পার্লার, রেস্ট হাউস, শপিং মল, টেইলারিং শপ, রেস্টুরেন্টসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এতে করে যারা বসবাস করার জন্য বাসা-বাড়ি করেছেন কিংবা ভাড়া নিয়েছেন তারা প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়ছেন। বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চলায় সাধারণত লোক সমাগম বেড়ে যায়। তার সাথে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন সময় সিডিএ’র পক্ষ থেকে জনগণের সতর্কতার জন্য কিছু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দায় শেষ করে। বাস্তবে এ পর্যন্ত কোনো অভিযান পরিচালনা কিংবা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উল্লেখযোগ্য নজির নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয়, কেউ নিজ থেকে এ সকল অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে শুধুমাত্র নোটিস প্রদান করে দায়িত্ব শেষ করা হয়। বরং ওই অভিযোগ ও নোটিসকে ভিত্তি করে অনেক অসাধু পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
নগরীর প্রত্যেক এলাকায় সিডিএ’র পরিদর্শক রয়েছে। অথচ ওই সকল পরিদর্শকের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো অবৈধ স্থাপনার কাজ বন্ধ কিংবা উচ্ছেদ করার কর্মকাণ্ড সচরাচর দেখা যায় না। বরং অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিদর্শক ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধ ভবন নির্মাণ কাজ করা হয়। সিডিএ সমপ্রতি খুলশী ও নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যাপারে সতর্ক বিজ্ঞপ্তি দেয়। একইভাবে তার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি আবাসিক এলাকায় অনুরূপ অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা হলেও কোনো প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
এমনকি বর্তমানে নগরীর প্রাণকেন্দ সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থাপনা, দোকান ঘর, শো-রুম গড়ে উঠলেও এর জন্য সিডিএ থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। নগরীর এই এলাকা এমনিতেই যানজট এলাকা হিসেবে পরিচিত। আবার অবৈধ দোকান-পাট, স্থাপনা, শো-রুম গড়ে উঠায় রমজান মাসে যানজট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর অভিযোগ। এদিকে সিডিএ’র অথরাইজেশন বিভাগ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদ অভিযান চালানো যায় না।
