এ দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন সিনেটর কেনেডি

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৪, ২২:৩৮
ঢাকা সফররত মার্কিন মানবাধিকার কর্মী কেরি কেনেডি বলেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পক্ষে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক ধরনের লড়াই করেছিলেন প্রয়াত সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডি। বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা, নির্মমতার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। ঐ সময় তিনি কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশিদের দেখতে এসেছিলেন। তাদের উপর নির্যাতনের কথা মার্কিনীদের কাছে তুলে ধরেছিলেন। রবিবার বাংলাদেশের মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু প্রয়াত মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির নামে রাজধানীতে প্রতিষ্ঠিত সেন্টার পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। কেনেডির ভাতিজি কেরির মধ্য দিয়ে এই প্রথম কেনেডি পরিবারের কোনো সদস্য সেন্টারটি পরিদর্শন করলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি আক্কু চৌধুরী, কর্নেল (অব:) সাজ্জাদ জহির প্রমুখ। কেরি কেনেডি বলেন, এদেশে এডওয়ার্ড কেনেডির নামে একটি সেন্টার রয়েছে তা আসার পরে জেনেছি। তার প্রতি এদেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে আমি খুশি। তিনি বলেন, আমার বয়স যখন ১০ কিংবা ১১ তখন এডওয়ার্ড কেনেডির মুখে বাংলাদেশের কথা শুনেছি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনিই সফরে এসেছিলেন। এই সফরের বিষয়ে তিনি আমাদের সকলকে বলেছিলেন। তিনি বলেন, এডওয়ার্ড কেনেডি শুধু তার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেননি। বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। জনমানুষের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও তার ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা। আমাদের ১২৫ সদস্যের পরিবারের সকলের খোঁজ-খবর রাখতেন তিনি। কেরি বলেন, আমাদের শক্তিশালী অর্থনীতি হলেও আমাদের প্রধান শক্তি হলো মানুষের স্বাধীনতা, ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার। মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য কেনেডি নিজেকে সব সময় প্রস্তুত রাখতেন। তার মৃত্যুর পর জনগণ প্রতিদান দিয়েছে তাকে সম্মান দেখিয়ে। মানবাধিকার নিয়ে আমার কর্মকাণ্ডে এডওয়ার্ড কেনেডির বড় অনুপ্রেরণা রয়েছে। ড্যান মজীনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কেনেডির ভূমিকা প্রমাণ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইতিহাসের সঠিক পথে ছিল। একমাস তিনিই সিনেটে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা ও শান্তির জন্য কথা বলেছিলেন। কেরি কেনেডির সফর বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি মানবাধিকার, দরিদ্র মানুষের কল্যাণের জন্য এখানে এসেছেন। অনুষ্ঠানে কেনেডি সেন্টার প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশে কেনেডির সফর নিয়ে দুটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য, কেরি কেনেডি হলেন এডওয়ার্ড কেনেডির ভাই রবার্ট এফ কেনেডির মেয়ে।