সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার নিজেই সড়ক অবরোধে নামলেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে ঘোষণা দিলেন আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে মিরপুরের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ, কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল কাইয়ুম, ভাষানটেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হোসনে আরাকে প্রত্যাহার করা না হলে শনিবার থেকে মিরপুর অচল করে দেয়া হবে। গতকাল রবিবার বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মিরপুরে অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে মিরপুর-গুলিস্তান, মিরপুর-গাবতলী ও মিরপুর-কচুক্ষেত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে গোটা মিরপুর এলাকা যানজটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস আর রোজা শুরুর আগের দিন হওয়ায় রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়।
স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা-১৫ আসনের এমপি কামাল আহমেদ মজুমদারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চক্করের পাশে যান। সেখানে তারা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান করতে থাকেন। অবরোধ চলাকালে সেখানে বক্তব্য রাখেন কামাল আহমেদ মজুমদার। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিসম্বলিত মিরপুর, কাফরুল ও ভাষানটেক এলাকার ১০টি তোরণ পুলিশ ভেঙে ফেলেছে। আওয়ামী লীগের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এসব তোরণ বানানো হয়েছিল। কামাল মজুমদারের দাবি, তোরণ ভাঙার সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা করা হয়েছে। তাই মিরপুরের ডিসি, কাফরুল ও ভাষানটেক থানার দুই ওসিকে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। নইলে শনিবার থেকে পুরো মিরপুর এলাকা অচল করে দেয়ার হুমকি দেন তিনি।
মিছিলে কামাল মজুমদার ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মাইকেল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব এম এ গফুরসহ মিরপুর ও কাফরুলের পদধারী সব পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও এসব পুলিশ কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হওয়া উচিত।
মিরপুরের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যে তোরণগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে সেগুলো তিন দিনের জন্য অনুমতি নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তাছাড়া রোজা শুরুর আগে বিভিন্ন ফুটপাতে উচ্ছেদসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। ফলে অনুমোদিত সময় পার হওয়ার পরই সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। আর ওই সব তোরণে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর যেসব ছবি ছিল তাও যত্ন সহকারে খোলা হয়েছে। সেখানে অবমাননার কোন ঘটনা ঘটেনি। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তোরণগুলো এমনভাবে তৈরী করা হয়েছিল তাতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। পাশাপাশি ওইসব তোরণের কারণে কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। ফলে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতেই এটা করা হয়েছে।
এদিকে সপ্তাহের প্রথম দিন আবার রোজা শুরুর আগের দিন হওয়ায় গতকাল রাজপথে মানুষের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। হঠাত্ করেই কোন ঘোষণা ছাড়া সড়ক অবরোধ করায় রাস্তায় বের হওয়া সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকেই তখন বলেছেন, সরকার দলীয় একজন এমপিকে রাজপথ অবরোধ করে কেন দাবি আদায় করতে হবে? পুলিশ কর্মকর্তাদের যদি সরাতেই হয় তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে নিলেই পারতেন। সরকার দলীয় একজন এমপি হিসেবে তিনি এভাবে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলতে পারেন না।
