উখিয়া-টেকনাফের সাগরপথে মানব পাচারের ভয়াবহতা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়ে উপকূলীয় এলাকায় ৫১ সদস্য বিশিষ্ট মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর যেন কোন মায়ের বুক খালি হতে না পারে সে ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মানবপাচারকারীদের দমন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গাসহ উখিয়া-টেকনাফ উপকূলীয় এলাকার ৬৬৪ জন দালালের তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এসব দালালদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে ১০৬টি মামলা রুজু করা হয়েছে। দেড় শতাধিক দালালকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য দালালদের খোঁজে পুলিশ তত্পর রয়েছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, উপকূলীয় এলাকায় এখন পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্থানীয় এনজিও হেল্প কক্সবাজারের পরিচালক এমএ আবুল কাশেম জানান, তারা এখন মানবপাচার প্রতিরোধে উপকূলীয় এলাকায় কাজ করছেন। উপকূলের রেজুব্রিজ, সোনারপাড়া, ইনানী, নিদানিয়া, পাটুয়ারটেক, রূপপতি, ইমামের ডেইল, ছেংছরি, বায়লাখালী, ছোয়াংখালী, ছেপটখালী, মনখালী, সোনাইছড়ি, মাদারবুনিয়াসহ ১৯টি গ্রামে উদ্বুদ্ধকরণ সেমিনারের মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের নিয়ে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঐ কমিটির মধ্য থেকে ৫ জন করে সদস্য প্রতিরাতে উপকূলীয় এলাকা পাহারা দেবে। মানবপাচার সংক্রান্ত কোন তথ্য পাওয়া মাত্রই তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে জানাবেন।
উপকূলীয় এলাকা ঘুরে জালিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম চৌধুরীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, মানবপাচারকারীদের তত্পরতা এখন তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় মানবপাচার চলছে। মানবপাচারের উপর কর্মরত এনজিও ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যায়াল এক্শন (ইফসা)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে গত ৪ বছরে প্রায় ১০ হাজারের অধিক লোক উপকূলীয় এলাকা দিয়ে সাগর পথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে। এসময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সাড়ে ৮ শতাধিক মালয়েশিয়াগামী লোককে উদ্ধার করলেও তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়নি। উপরন্ত আটক মালয়েশিয়াগামীদের ভিকটিম উল্লেখ করে তাদের ছেড়ে দেয়ার কারণে ঐসব লোকজন পুনরায় বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে মালয়েশিয়ায় চলে যেতে সক্ষম হয়েছে। এভাবে মালয়েশিয়া যাত্রীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশানুরূপ ভূমিকা পালন করা হয়নি। বর্তমানে পাচারের ধারাবাহিকতা বৃদ্ধি পেয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে বলে সচেতন মহল দাবি করেন।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ অংসা থোয়াই বলেন, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে পুলিশ থানায় মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে ১৩ মামলা রুজু করেছে। এসব মামলায় ৮৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ২৬ মানবপাচারকারীকে। টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তার হোসেন বলেন, ২০১২ সালের জুন থেকে এই পর্যন্ত থানায় বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের পক্ষ থেকে ৯৩টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এতে ৫৮০ জন দালালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি শতাধিক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করে বলেন, এখন থেকে যেসব মালয়েশিয়াগামী যাত্রী আটক করা হবে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।
