গিট্টু ছাদ থেকে শূন্যে ভেসে ভেসে বারান্দার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকল। চান্দু মামা পত্রিকা পড়ছেন। শীতসকালের রোদ এসে পড়েছে চান্দু মামার গায়ে। চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উড়ছে। গিট্টু যে এসেছে এটা জানানোর জন্য মামার কানের কাছে গিয়ে গিট্টু ডাকল—
: চান্দু মামা।
: ও গিট্টু এসেছিস। নে টোস্ট খা।
প্লেট থেকে একটা টোস্ট নিয়ে কামড় দেয় গিট্টু। শুধু টোস্ট খাওয়ার শব্দ শোনা যায়। কাউকে দেখা যায় না।
: তো মামা ছুটির দিন। কোনো প্রোগ্রাম আছে নাকি?
: হ্যাঁ রে, মাছ কিনতে যাবো। মাসের প্রথম সপ্তাহ। বেশ কয়েক পদের মাছ কিনবো ভেবেছি। কিন্তু মাছে যে আজকাল কত রকমের ভেজাল দিচ্ছে তার তো ঠিক নাই।
: চলেন তো বাজারে যাই। গিট্টু আছে না। সব ভেজাল বের করে ফেলবো।
চান্দু মামার সাথে কাঁচা বাজারের দিকে হাঁটতে থাকে গিট্টু। মানুষদের কাজকর্ম করতে ও খুব মজা পায়। ভূতদের সাথে থাকতে থাকতে ওর জীবন থেকে সকল আনন্দ মুছে গিয়েছিল। চান্দুমামার সাথে পরিচয়ের পর নানা পদের ভালো কাজ করে বড় আনন্দ পাচ্ছে গিট্টু। খারাপ মানুষদের শাস্তি দিতে ও মজাই পায়। বাজারে আজ অনেক ভিড়। ছুটির দিন তো, তাই চাকরিজীবী মানুষজনে আজ বাজার ভরতি। লোকজন ঠেলে মাছবাজারে পৌঁছে যান চান্দুমামা আর গিট্টু। নানান জাতের মাছ বাজারে। কিন্তু অধিকাংশ মাছই ভালো না। বড় গলদা চিংড়ি দেখে থামেন চান্দু মামা। একজন কিনছে। এক কেজি মাছে যে-ক’টা হবার কথা তার চেয়ে অনেক কম মনে হচ্ছে। চান্দু মামার সন্দেহ হলো।
: গিট্টু আছিস?
: হ্যাঁ, মামা।
: দেখ তো কাহিনি কী? মাছগুলো ভালো করে টিপে দেখ। গিট্টু অদৃশ্যভাবেই জোরে টিপতে থাকে চিংড়ি মাছগুলোকে। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো মাছগুলোর শরীর থেকে নরম জেল বের হতে থাকে। দোকানদারের চোখ গোল হয়ে যায়। দোকান ছেড়ে পালাতে যেতে চাইতেই কয়েকজন চেপে ধরে ওকে। ক্রেতাদের মধ্যে হৈচৈ পড়ে যায়। মাছের ওজন বাড়ানোর জন্য মাছের ভেতর জেল পুরে দেয়া হয়েছে। যিনি মাছ কিনছিলেন তিনি মাছ ফেরত দেন। তুমুল হৈচৈ-এর মধ্যে বাজার পরিদর্শনে আসা পুলিশসহ মোবাইল কোর্ট এসে উপস্থিত হয়। পুলিশ দেখে গিট্টু বুঝে নেয় মাছওয়ালার আজ দফা রফা। এবার মাছে ভেজাল করার জন্য ওর শাস্তি হবেই। মোবাইল কোর্ট দেখে অনেক দোকানদার দোকান ছেড়ে পালিয়ে গেছে। দোকানদারবিহীন দোকানগুলোর মাছ পরীক্ষা করে মোবাইল কোর্ট। প্রত্যেকটা দোকানের মাছে ভেজাল। কেউ ফরমালিন দিয়েছে, কেউ পচা মাছ বরফ দিয়ে বিক্রি করছে, কেউ মাছের কানকোয় রঙ দিয়ে তাজা প্রমাণ করছে। কত রকমের ভেজাল!
চান্দু মামা আর গিট্টু মিলে বাছাই করে ভালো ভালো কয়েক পদের মাছ কিনে নেয়। ফাটাফাটি মাছ কেনা হলো।
: মামু আজ ‘ফিশ ফ্রাই, খেতে চাই’ হবে তো?
: হবে রে ভাগনে, যে খেল দেখালি! ফিশ ফ্রাই না হলে চলবে? চান্দু মাামার মুখে ঝকঝকে হাসি।
