নানা প্রয়োজনে আগুন জ্বালানোর জন্য লাইটারের কার্যকারিতা সত্যিই অসাধারণ। যদিও অন্য অনেক আবিষ্কারের মতো এই আবিষ্কারটিরও শুরুর দিকের ইতিহাস নিয়ে নানা ধরনের মত প্রচলিত আছে। সেই সাথে ভিন্নতা আছে লাইটারের বর্তমান ব্যবহারের সাথে এর প্রথম দিকের ব্যবহারেরও। প্রথম যুগের লাইটার কার বা কাদের হাত ধরে মানুষের কাছে পরিচিত হয়েছিল তা নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও এটি সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, আগুন জ্বালাতে লাইটারের ব্যবহারের প্রথম ধারণা ও ব্যবহারের সূত্রপাত হয়েছিল যুদ্ধ তথা যুদ্ধাস্ত্রের কারণেই। এর মধ্যে একদল ঐতিহাসিকের দাবি আরব সামরিক প্রকৌশলীরা মূলত ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে প্রথম একটি লাইটার সদৃশ সামগ্রী আবিষ্কার করেছিলেন এবং এর কারণ ছিল বিভিন্ন ধরনের কামান বা যুদ্ধাস্ত্রে অগ্নি সংযোগ করা। আর আরবদের বানানো এই লাইটারগুলো ছিল একধরনের বৃহত্ বয়মের মতো। আবার কারও কারও মতে ষোড়শ শতকে ফ্লিন্টলক পিস্তলের কিছু পরিবর্তন এনে এবং সেই পিস্তলের কর্মপ্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে লাইটারের ধারণাটি আবিষ্কার করেছিলেন ইউরোপীয়রাই। তবে আজকের যুগের লাইটার তার আধুনিক রূপ লাভ করে যাদের হাত ধরে তাদেরই একজন হলেন জার্মানির রসায়নবিদ জোহান উলফগ্যাং ডোবেরেইনার। এই বিজ্ঞানী ১৮২৩ সালে যে লাইটারটি উদ্ভাবন করেছিলেন সেটি মূলত একটি আধারে সংরক্ষিত বিভিন্ন রাসায়নিকের বিক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোজেন গ্যাস উত্পন্ন করতো এবং পাটিনামের একটি প্রভাবকের সাহায্যে এতে আগুন ধরানো হতো। তবে এ ধরনের লাইটারও আকারে বড় ছিল এবং এটি ব্যবহার বিপজ্জনক ছিল বলে উনিশ শতকের শেষার্ধেই উত্পাদন বন্ধ হয়ে যায় ডোবেরেইনার ল্যাম্প নামে পরিচিত এই লাইটারটির। ডোবেরেইনার ল্যাম্পের এই অসুবিধা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো এতে ঘর্ষণের সাহায্যে আগুন জ্বলানোর সুবিধা যোগ করেন কার্ল ভন ওয়েলসবাক নামের আরেক অস্ট্রিয়ান রসায়নবিদ। তিনি ফেরোসেরিয়াম নামের যে লাইটারটির জন্য পেটেন্ট করান সেটি ছিল সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং দামেও তুলনামূলক সস্তা। তবে ওয়েলসবাকের এই লাইটারকেও আরও ছোট করে অনেকটা আজকের দিনের আকৃতিতে নিয়ে আসার কৃতিত্ব আমেরিকার রনসন কোম্পানির। তারাই প্রথম ওয়ান্ডারলাইট নামে একধরনের লাইটার বাণিজ্যিকভাবে উদযাপন ও বিপণন শুরু করে। এটা ছিল ১৯১৩ সালের কথা। তবে লাইটারকে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আকর্ষণীয় করে তোলার পেছনে যে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল সেটি হলো জনপ্রিয় লাইটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিপ্পো। জর্জ জি বেইসডেল এর উদ্যোগে ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিই সর্বপ্রথম লাইফটাইম গ্যারান্টি আর বাতাস প্রতিরোধক লাইটার বাজারে ছেড়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। এ ছাড়া লাইটারের জ্বালানী হিসেবে ন্যাপথা ব্যবহারের কৃতিত্বও এই জিপ্পো কোম্পানির। এ ছাড়া ১৯৫০ সালের পর লাইটারের জ্বালানী হিসেবে গ্যাসীয় উপকরণ ব্যবহারের চলও বাড়তে থাকে। সেই সাথে বাজারে আসতে থাকে নানা ডিজাইন আর স্টাইলের বহু লাইটারও
