আন্তর্জাতিক বাজারে গার্মেন্টস পণ্যের মত চাহিদা থাকলেও প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নতি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে বিগত ১০ বছরের ব্যবধানে এ পণ্যটির রপ্তানি বেড়েছে ১ হাজার ভাগেরও বেশি। গার্মেন্টস উদ্যোক্তাদের ন্যায় নীতি সহায়তা পেলে প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি এক সময় গার্মেন্টসকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। গতকাল রাজধানীর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত প্লাস্টিক খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এমন মত দেন। ইপিবির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ইপিবি’র ভাইস-চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু। এ সময় প্লাস্টিক খাতের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গার্মেন্টস খাতের উদ্যোক্তারা বর্তমানে রপ্তানিতে উেস কর, নতুন বাজারে রপ্তানিতে সরকারের প্রণোদনা পাচ্ছে। সেই তুলনায় প্লাস্টিক খাতের উদ্যোক্তারা এ সুবিধা কম পাচ্ছে। তিনি তথ্য দিয়ে বলেন, বর্তমানে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলের আন্তর্জাতিক বাজারের পরিমাণ হচ্ছে ৭৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে প্লাস্টিক পণ্যের বাজারের পরিমাণ ৫৯২ বিলিয়ন ডলার। অথচ বিশাল এই বাজারের মাত্র দশমিক শূন্য এক শতাংশ বাংলাদেশের দখলে। বিশাল এই বাজারে বাংলাদেশের দখলের অংশ বাড়াতে গ্যাস-বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান, বাজারভিত্তিক জরিপ চালানো, ক্রেতা আকর্ষণে প্লাস্টিক কারখানায় কমপ্লায়েন্স (কর্মপরিবেশ) নিশ্চিত করা, মানসম্পন্ন পণ্যের পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এ সময় প্লাস্টিক খাতের উদ্যোক্তারা এ খাতের নানামুখী সমস্যা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি জসিম উদ্দিন গ্যাস সমস্যার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা বাতিলে প্লাস্টিক খাতের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। এ জন্য সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি কমছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২০১২-১৩ অর্থ বছরে সাড়ে ৮ কোটি ডলারের প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হলেও সদ্য সমাপ্ত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে প্লাস্টিক রপ্তানির পরিমাণ ৮ কোটি ডলারের কিছু কম।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইপিবি’র মহাপরিচালক বেগম মাফরুহা সুলতানা, পরিচালক এ এস এম হাবিবুল হাসান চৌধুরী, বিপিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এ এস এম কামাল উদ্দিন প্রমুখ।
