আদমজীতে ফিরে আসছে কর্মচাঞ্চল্য

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৪, ২১:২৯
অব্যাহত লোকসানের অজুহাতে এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুটমিল বন্ধের একযুগ পর আবারো কর্মচাঞ্চল্যে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই শ্রমঘন শিল্পাঞ্চলটি। আদমজী জুটমিল থেকে গড়ে ওঠা আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। আদমজী ইপিজেডের সব প্লটে কারখানা চালু হলে লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করার সুুযোগ পাবে। ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ১৫ কিলোমিটার এবং জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত আদমজী ইপিজেড। ২০০২ সালে বন্ধ হওয়া আদমজী জুটমিল এলাকাটিকেই আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা করা হয়েছে যা ২০০৬ সালের ৬ মার্চ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আদমজী ইপিজেড সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ১০৮৬ কোটি টাকা, রপ্তানি হয়েছে ৬২৬৯ কোট টাকা, কর্মসংস্থান হয়েছে ২৮৭৬০ জন ও নতুন শিল্প চালু হয়েছে ৩১ টি। পূর্ব পাকিস্তানের ২২ পরিবারের অন্যতম ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিনভাই ওয়াহেদ আদমজী ওরফে দাউদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী এবং গুল মোহাম্মদ যৌথভাবে ১৯৫০ সালে আদমজী জুটমিল নির্মাণ করেন। ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর ১৭শ’ হেসিয়ান এবং ১ হাজার সেকিং লুম দিয়ে এই মিলের উত্পাদন শুরু হয়। তখন প্রায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত আদমজী জুটমিলে প্রতিদিন গড়ে ২৮৮ টন পাটের চট উত্পাদন হতো। মিলটিতে ২৪ হাজার ৯১৬ জন শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি করতেন। ইপিজেডে আদমজী জুটমিলের পুরোনো শ্রমিকেরা চাকরি না পেলেও নতুন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন এসে কাজ করছে। আদমজীকে ঘিরে নতুন করে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও বিস্তৃতি লাভ করছে। হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মচাঞ্চল্যে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই শ্রমঘন শিল্পাঞ্চলটি।