আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অর্থায়নে কাজীপুর উপজেলার যমুনার চরে নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নে জজিরায় নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০৫ জন ভূমিহীন পরিবার ঠাঁই পেল। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে তারা এখন নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিবছর ভয়াবহ যমুনা নদী ভাঙনে বহু মানুষ বসতভিটা হারিয়ে ছিন্নমূলে পরিণত হয়। এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠী কখনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অথবা যমুনার বুকে নতুন করে জেগে উঠা চরে বসতি স্থাপন করে। কিন্তু সব কিছু নদীতে হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করে। নদী ভাঙনে গৃহহীন ছিন্নমূল এসব মানুষের বসবাসের জন্য সরকার খাস জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় উপজেলার পূর্ব-দক্ষিণে জজিরা বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে ৩.১৫ একর খাস জমির উপর দুইটি আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। মাটি ভরাটের কাজ শেষে প্রায় ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১টি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। এসব ব্যারাকে ১০৫টি পরিবারকে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আবাসন প্রকল্পে পুনর্বাসিতদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পেশা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ে ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে।
জজিরা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ১৫নং ঘরের মালিক শাহ আলম বলেন, ৫ বার যমুনার ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে বিভিন্ন স্থানে কোনো রকমে আশ্রয় নিয়ে কষ্টে ছিলাম। জজিরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে এখন নতুন করে সংসার শুরু করতে পারব। ১ ও ২নং ব্যারাকের মাহেলা খাতুন, রেজাউল করিম, আরজিনা খাতুন, মতিলাল দাস, বেনুকা খাতুন, আঃ সালাম, দুলাল হোসেনসহ সেখানে পুনর্বাসিত অনেকে বলেন, যমুনা নদীর মধ্যে আমাদের সবকিছু চলে গেছে। সরকার এখানে থাকার ব্যবস্থা করায় আমরা মাথা গুঁজার ঠাঁই পেয়েছি।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিউল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে অনেক মানুষ ছিন্নমূলে পরিণত হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পে সেসব মানুষ ঘর পেয়ে ভালভাবে জীবনযাপন করতে পারে।
