কোটপরা ভদ্রলোক

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:২৯

পেঙ্গুইনকে নিশ্চয়ই তোমরা চেনো। পেঙ্গুইনরা শিশুদের প্রিয় পাখি। এই অদ্ভুত পাখিটি দুই পায়ে হেলেদুলে বরফের মধ্যে হাঁটে আবার পানিতেও সাঁতার কাটে। ঠাণ্ডাজগতের বাসিন্দা এরা। দেহের তুলনায় এদের ডানা অতি ছোট। এ কারণে এরা উড়তে পারে না! তবে সম্প্রতি একটি ঘটনার পর সবার এই ধারণা পাল্টে গেছে। সংবাদ সংস্থা বিবিসি’র একজন ক্যামেরাম্যান কিং জর্জ আইল্যান্ডের ওপর একটি তথ্যচিত্র বানানোর সময় হঠাত্ তাঁর ক্যামেরায় দেখেন একঝাঁক পেঙ্গইন তাদের ডানা মেলে উড়ে চলছে আকাশ দিয়ে! গবেষকরা ধারণা করছেন, এসব পেঙ্গুইন এভাবে উড়ে অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর থেকে উড়োপথে পাড়ি দিয়ে যায় আমাজনের রেইনফরেস্টে। বিশাল সেই থলথলে শরীরটা নিয়ে অমন ছোট্ট দুটি ডানা মেলে আকাশজুড়ে উড়ছে সাদাকালো সব পেঙ্গুইন! শুধু তা-ই নয়, তারা পাড়ি দিচ্ছে হাজার হাজার মাইল।

উত্তর ও দক্ষিণ মেরুসংলগ্ন স্থানগুলোতে এরা বাস করে। পেঙ্গুইনের দেহের উপরিভাগটা কালো বা ধূসর এবং নিচের দিকটা ফকফকে সাদা। দাঁড়িয়ে থাকা একটি পেঙ্গুইনকে কোটপরা ভদ্রলোকের মতো দেখায়। দক্ষিণ মেরুর তীব্র শীতল পানি অথবা ঠাণ্ডা বাতাস থেকে নিজেদের রক্ষার করার জন্য এদের দেহে ছোট ছোট উজ্জ্বল পালকের মতো আবরণ থাকে। এ আবরণ তাপ শরীর থেকে বাইরে বা বাইরে থেকে শরীরে ঢুকতে বাধা দেয়। জেনে অবাক হবে যে, এদের গায়ের চামড়ার নিচে দুই ইঞ্চির মতো পুরু চর্বির স্তর থাকে। এজন্য এরা এই সঞ্চিত চর্বি থেকে শক্তি বা ক্যালরি গ্রহণ করে সপ্তাহের পর সপ্তাহ না খেয়ে থাকতে পারে!

সাঁতার কাটায় পেঙ্গুইনরা বেশ পটু। প্রতি ঘণ্টায় এরা প্রায় ৩০ মাইল পর্যন্ত সাঁতার কেটে যেতে পারে। সাঁতারের সময় সামনের পা দুইটি ব্যবহার করে এবং পা দুইটা দিয়ে দিক পরিবর্তন করে থাকে। একটানা ২০ মিনিট পানিতে ডুব দিয়ে থাকা এদের কাছে তেমন কঠিন কোনো কিছু নয়! এরা একা থাকতে পারে না, দলবদ্ধ হয়ে থাকে। এমনকি পানিতে নামার সময়েও একা বের হয় না। অনেক সময় সুযোগসন্ধানী লেপার্ড সি এদের আক্রমণ করে। এ কারণে এরা সর্বদা সতর্ক থাকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে—পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার আগে পেঙ্গুইনরা সবাই মিলে পরামর্শ করে। একজনকে সবার আগে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। পরে বাকিরা একত্রে ঝাঁপ দেয়।

সমুদ্রের প্রায় ১৬০০ ফুট গভীরে এরা চলে যেতে পারে। এ অবস্থায় দম বন্ধ করে ১৫ মিনিট পর্যন্ত বা তার বেশি সময় পর্যন্ত থাকতে পারে। পানির নিচে এরা ৬ থেকে ৯ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় সাঁতার কাটতে পারে। পেঙ্গুইনের শরীরের হিমোগ্লোবিন বিশেষ ধরনের হয়ে থাকে। এর ফলে ওদের রক্ত অনেকক্ষণ অক্সিজেন ধরে রাখতে পারে। এছাড়াও যখন ওদের অক্সিজেন বাঁচিয়ে রাখতে হয় তখন ওরা শরীরের অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ চিহ্নিত করে সেগুলোর কাজ কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে রাখে। এভাবে ওদের শরীরের শক্তি, তাপ, অক্সিজেন সবকিছুই সংরক্ষণ করে রাখার ব্যাবস্থা আছে। এরা প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এরা মাছ বা প্রাণীর মাংস খেয়ে বাঁচে। অ্যান্টার্কটিকাতে পেঙ্গুইনের বেশ কয়েকটি প্রজাতি দেখা যায়। পেঙ্গুইনদের মধ্যে রাজা বা এম্পেরর পেঙ্গুইন হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী পেঙ্গুইন প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে লম্বা ও স্বাস্থ্যবান। তাই তো এদের নামকরণ করা হয়েছে পেঙ্গুইন সম্রাট। সর্ববৃহত্ প্রজাতির এম্পেরর পেঙ্গুইন উচ্চতায় ৪ ফুট। ওজনে প্রায় ৪৫ কিলোগ্রাম হতে পারে। ‘অ্যাডেলি’ নামক আরেক ধরনের পেঙ্গুইন আছে। এরা সংখ্যায় বেশি এবং অ্যান্টার্কটিকার মূল মহাদেশে থাকে। ‘অ্যাডেলি’ পেঙ্গুইন আকারে প্রায় ২ ফুট।