ব্রাজিল-চিলির পর নক-আউট পর্বে আরও একটি দুর্দান্ত লড়াই দেখল ফুটবল বিশ্ব। রেসিফের অ্যারেনা পারনামবুকুয় অনুষ্ঠিত চরম উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইটাও শেষ হয়েছে টাইব্রেকারের মধ্যদিয়ে। আগের দিন শনিবার চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে ব্রাজিলের যেমন ত্রাণকর্তা ছিলেন গোল কিপার হুলিও সিজার, তেমনি রবিবার গ্রীসের বিপক্ষে কোস্টারিকার হয়ে জয়ের নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন কাইলর নাভাস। ঝড়-ঝঞ্ঝা কাটিয়ে বন্দরে জাহাজ নিয়ে তুললেন।
কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার এই লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়েই জয় পেতো কোস্টারিকা। কিন্তু খেলার ৬৬ মিনিটে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় অস্কার দুয়ার্তে লাল কার্ড পেয়ে মাঠছাড়া হলে বাকি সময়টায় দশজনের দল নিয়ে খেলতে হয় তাদের। এই সুযোগে ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে সক্রেটিস পাপাসতাথোপোলাসের নৈপুণ্যে ১-১ গোলে সমতা ফেরায় গ্রীস।
অতিরিক্ত সময়ের খেলায়ও জয়-পরাজয়ের সন্ধান মেলেনি। টাইব্রেকারেও চলছিল সমতা। প্রথম তিন শটের সবক’টিতেই গোল পায় দু’দল। শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে থিওফেনিস গিকাসের নেয়া গ্রীসের চতুর্থ শট দক্ষতার সঙ্গে আটকে দেন কোস্টারিকার গোল কিপার নাভাস! ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোস্টারিকা! ম্যাচ শেষে কোস্টারিকার জয়ের নায়ক ফিফা ডটকমকে বলেন, ‘এটা (কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত) আমাদের জন্য এতোদিন স্বপ্ন ছিল। এবার এই স্বপ্ন সত্যি হলো। এটা এমনই এক স্বপ্ন যেটা আমাদের পুরো দেশটাই দেখছিল।’
টাইব্রেকারের সময়ের অনুভূতিটা এভাবেই ব্যক্ত করেন লেভান্তের এই গোল কিপার, ‘এই সময়টায় আমার মাথায় কী ঘুরপাক খাচ্ছিল আমি এখন তা মনে করতে পারবো না। মনে হচ্ছে আমি যা করেছি এর সবই ছিল অভিনয় এবং অভিনয়টা ভালভাবেই করতে পেরেছি।’
এই প্রথম বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল কোস্টারিকা। এই ইতিহাস গড়তে পারায় দারুণ খুশি কোস্টারিকার গোল কিপার, ‘আমরা ইতিহাস গড়ছি। জনগণের হূদয়ে চিরদিনের জন্য আমরা একটা জায়গা করে নিতে চাই। দলের জন্য এবং সমগ্র দেশের জন্য আরও দুর্দান্ত জয়ের অনুভূতি এনে দিতে পারায় আমি খুশি। এ জন্য ঈশ্বরের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
গ্রীসের বিপক্ষে লড়াইটা সহজ ছিল না বলে জানালেন নাভাস, ‘এটা আদৌ সহজ কোনো খেলা ছিল না। ম্যাচে দেখা গেছে একটা সময় আমরা আধিপত্য দেখিয়েছি, আবার এমনও দেখা গেছে প্রতিপক্ষরাও আধিপত্য দেখিয়েছে। তবে আমরা কখনোই আশা ছাড়িনি।’ নাভাস দুর্দান্ত পারফরম্যান্স না দেখালে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারতো বলে জানালেন গ্রীসের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস, ‘অবশ্যই, তাকে অভিনন্দন জানাতে হবে। সে না থাকলে ফলটা অন্যরকম হতে পারতো।’
উচ্ছ্বসিত কোস্টারিকার কোচ জর্জ লুইস পিন্টো বলেন, ‘দেশের ভেতর এবং বাইরে কোস্টারিকার সব মানুষ রাস্তায় নেমে এই জয় উজ্জাপন করছে। এই জয় কোস্টারিকার জনগণের জন্য। দেশটির মানুষ ফুটবল অনেক ভালবাসে এবং তারা এই জয় প্রাপ্য।’ কোয়ার্টার ফাইনালে মধ্যআমেরিকার দেশটি লড়বে শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডের সঙ্গে। আগামী শনিবার সালভাদরের অ্যারেনা ফন্তেনোভাতে অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার ওই লড়াই। কোস্টারিকা লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানালেন এই কলম্বিয়ান কোচ, ‘আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাবো। আমরা আরও এগিয়ে যাবো। আমরা সামনে ভাল কিছুই দেখছি। একটা ব্যাপারে আশ্বস্ত করতে চাই যে, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেও আমরা বাদ পড়বো না।’
