যুক্তরাষ্ট্র মোকাবিলায় প্রস্তুত বেলজিয়াম

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৪, ২১:৫৯
গ্রুপপর্বে চোখ ধাঁধাল পারফরম্যান্স দেখানো যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ ষোলর লড়াইয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিচ্ছে বেলজিয়াম। সালভাদরের অ্যারেনা ফন্তেনোভায় অনুষ্ঠেয় আজকের এই লড়াইয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার জন্য লড়বে এই দুই দল। লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে রুখে দিতে বেলজিয়াম প্রস্তুত বলে জানালেন উইঙ্গার ড্রাইস মের্টেনস, ‘আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই অনেক ভাল খেলছে। তাদের খেলাগুলোয় কিছুটা চমক ছিল। তাদের খেলাগুলো আমি দেখেছি। আমার মনে হয়েছে সত্যিকার অর্থেই তারা ভাল দল। আক্রমণভাগে তাদের ভাল একজন স্ট্রাইকার রয়েছে। একত্রিতভাবে ভাল খেলে দলটি। ফলে তাদের বিপক্ষে গোল করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যেতে পারে। এরপরও তাদের বিপক্ষে জয় পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’ প্রথমপর্বে লড়াইয়ের দিকে তাকালে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। কঠিন গ্রুপ ‘জি’র হয়ে খেলেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে তারা। ঘানা, পর্তুগাল এবং জার্মানিকে ফাইট দিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ষোল নিশ্চিত করেছে জার্গেন ক্লিন্সম্যানের শীষ্যদের সাফল্য সবাইকে অবাক করেছে। এখন পর্যন্ত কম নৈপুণ্য দেখায়নি এবারের বিশ্বকাপে ‘কালো ঘোড়ার’ তকমা নিয়ে আসা বেলজিয়াম। ‘এইচ’ গ্রুপে নিজেদের তিনম্যাচের সবকটিতে জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষের দল হিসেবে শেষ ষোলর টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। যদিও আশানুরূপ গোল পায়নি দলটি। আলজেরিয়া, রাশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের বিরুদ্ধে চার গোল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বেলজিয়ামকে। এ ব্যাপারে মের্টেনস বলেন, ‘দশ জনকেই পেছনে নিয়ে খেলে এমন দলের বিপক্ষে গোল করা সত্যিই কঠিন। আমাদের গত তিন ম্যাচে এমনটাই হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও এমনটাই হতে পারে বলে ধারণা নাপোলির এই উইঙ্গারের, ‘আমি মনে করি এই লড়াইটাও আগের তিনটির মতো হবে। আমরা জানি তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কিভাবে খেলে। তারা দলীয় পারফরম্যান্সের দিকে বেশি নজর দেয়। এভাবেই তারা নিজেদের সেরাটা খেলে থাকে। তাদের কিছু খেলোয়াড় রয়েছে, যারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্য রাখে। তাই বলা যায়, এটা একটি কঠিন ম্যাচ হবে।’ বেলজিয়ামের বিপক্ষে ভাল কিছু করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জার্গেন ক্লিন্সম্যান। এই লড়াইয়ের আগে দলের এই জার্মান কোচ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন বলে জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার ওমর গঞ্জালেস, ‘নক-আউটে এই লড়াইয়ের ব্যাপারে তিনি ইতিবাচক। তিনি শুধু আমাদের এইটুকুই বলছেন, আমাদের পরিবারের কারও ফ্লাইট যদি ১৪ বা ১৫ জুলাইয়ে থাকে তাহলে তা পরিবর্তন করতে। অর্থাত্ টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার খুব কাছ পর্যন্তই আমরা টিকে থাকবো। তিনি কতটা ইতিবাচক এবং দল নিয়ে কেমন প্রত্যাশা তার এই ভাষ্যেই এটা বুঝা যায়। অবশ্যই আমাদের সবাইকে এই প্রত্যাশা বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’ এদিকে, গ্রুপপর্বে কোনো গোল না পেলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে তারকা খেলোয়াড় এডিন হ্যাজার্ডে আস্থা রাখছেন বেলজিয়াম কোচ উইলমটস, ‘এডিন আরও ভাল খেলতে চায়। আমাদের আরও এগিয়ে নিতে চায়। এটা সবাই জানে। আমি এখন তার নৈপুণ্য দেখার জন্য তাকিয়ে আছি। যদিও এসব বলে আমি তাকে কোনো চাপে ফেলার চেষ্টা করছি না। ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় দলকে এগিয়ে নিলে আমি অনেক খুশি হবো।’ দু’দলের অতীত পরিসংখ্যানে এগিয়ে বেলজিয়াম। এর আগে দল দু’টির পাঁচ লড়াইয়ে চারটিতেই জয় পেয়েছে ইউরোপের এ দেশটি। একবার জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিসংখ্যান ধরে রাখতে পারলে আজকের ম্যাচেও সহজ জয় প্রত্যাশা করতে পারে উইলমটসের শীষ্যরা।