সুন্দরবনে হরিণ শিকার বন্ধ হয়নি। বরং উপকূলীয় অঞ্চলে চিহ্নিত চোরা শিকারীর দল সুবিশাল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত করে চড়া মূল্যে হরিণের মাংস ও চামড়া সরবরাহ করছে। দেশের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চোরা শিকারীরা সুকৌশলে হরিণ নিধন অব্যাহত রেখেছে। এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য পৃথিবী শ্রেষ্ঠ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের বিচিত্র প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে আর উজাড় হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
সুন্দরবনের চিত্রল মায়াবী হরিণ পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। বন বিভাগের হিসাব মতে, সুন্দরবনের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার। সুবিশাল বন রাশিতে সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেড় থেকে দুই লাখ হরিণের পদচারণা সুন্দরবনে। চিত্রল হরিণ রয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার। সুন্দরবনে চিত্রল মায়াবী হরিণকে কেন্দ চি?িহ্নত চক্রটি সংশ্লিষ্ট বন বিভাগসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে থাকলেও অদৃশ্য শক্তির জোরে তারা বহাল তবিয়তে হরিণ নিধন করে মাংস, চামড়া, শিং ও হাড় চড়া মূল্যে বিক্রি করছে।
সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে ৯ নং সোরা গ্রামে মুছাক সরদারের ছেলে আবুল কাশেম নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে হরিণ শিকার করে প্রকাশ্যে মাংস বিক্রি করছিল। গোপনে সংবাদ পেয়ে বুড়িগোয়ালিনী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত এসআই এনামুলের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থল থেকে হরিণের ৫ কেজি মাংসসহ কাশেমকে আটক করে। তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রচুর চামড়া ও শিং উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মোবাইল কোর্টে কাশেমের কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং তার আগ্নেয়াস্ত্রটি শ্যামনগর থানা পুলিশ জব্দ করে লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াধীন আছে। কাশেম ওই এলাকার চি?হ্নিত হরিণ শিকারী চক্রের অন্যতম সদস্য। বন বিভাগের সাথে হাত মিলিয়ে বরাবরই সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকার করে দেশের সর্বত্রই সরবরাহ করে থাকে। তাছাড়া একই এলাকার সহিদুল ও আমিনুর চোরা হরিণ শিকারী চক্রের অন্যতম হোতা। একাধিকবার হরিণের মাংসসহ প্রশাসনের কাছে ধরা পড়ে আইনের ফাঁক-ফোকড় দিয়ে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই কাজে লিপ্ত হয়। বর্তমানে আমিনুর হরিণ শিকার মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিজ এলাকায় বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
গত ৬ এপ্রিল পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চণ্ডিপুর গ্রামের আজিজ গাজীর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হরিণ শিকারী চক্র গডফাদার ও দলবলসহ র্যাবের হাতে ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে রান্না করা হরিণের মাংস, কাঁচা মাংস, চামড়া, শিং ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রকাশ্যে ধরা পড়ার পরে ধৃত আসামিরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে চাঞ্চল্যের জন্ম দেয়। যা তাত্ক্ষণিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ফলাও করে প্রচারিত হয়।
মুন্সীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় চি?িহ্নত চোরা শিকারীর দল প্রতিনিয়ত হরিণ শিকার করে চলেছে। জেলেরা বন থেকে ফিরে এসে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চোরা শিকারীরা জেলে-বাওয়ালী সেজে গহীন সুন্দরবনে ছোট ছোট নৌকা করে ২/৩ জনের সমন্বয়ে হরিণ শিকার করে বনের ভিতরেই ছাল ছারিয়ে নিয়োজিত এজেন্টদের মাধ্যমে ৪/৫শ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করছে। এ বিষয়ে শ্যামনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, চোরা শিকারী চক্রের তথ্য পেলে যে কোন মূল্যে নির্মূল করা হবে। অপচক্রের কোন প্রশ্রয় নেই। সাতক্ষীরা সহকারী বন রক্ষক কেরামত আলী মল্লিকের সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
