যশোরে ৪ হাজার নারীর কর্মসংস্থান

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৪, ২২:৩৫
যশোরের শার্শা উপজেলার গাতিপাড়ার কিশোরী শিউলীর বিয়ে হয় ৪ বছর আগে। বিয়ের ৩ বছর পর স্বামী একই গ্রামের বাবলু রহমান মারা যান। এসময় শিউলির কোলে আসে সিনপিয়া (৪) নামে এক মেয়ে শিশু। স্বামীকে হারিয়ে অসহায় শিউলি জড়িয়ে পড়েন চোরাচালান কাজে। কেননা শার্শা সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানকার বেশিরভাগ অসহায় মানুষ একাজের সাথে জড়িত। বিজিবি আর পুলিশের তাড়া খেয়ে তাকে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে হয়েছে। শার্শা সদরের আজফিয়া পারভিন চাপার স্বামী ইন্তাজুল ইসলাম ৮ বছর আগে মারা গেছেন। ছেলে আকরাম ও মেয়ে তামান্নাকে নিয়ে অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হন। উপায় না পেয়ে তিনিও জড়িয়ে পড়েন চোরাচালান কাজে। শুধু শিউলী বা আজফিয়া নয়, এরকম ৪ হাজার অসহায় ও বিপথগামী নারীকে কর্মসংস্থান করেছে আফিল উইভিং জুটমিলস। যেখানে কাজ করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন নারীরা। মাসিক বেতন বাদেও তাদের দেয়া হচ্ছে কমমূল্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্য। আছে বাসস্থানের ব্যবস্থা। উপজেলার কায়বা গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা পারু ( ৩৫ ) জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তার স্বামী আবদুর রউফ তাকে ফেলে অন্যত্র চলে যান। ৩ সন্তানকে নিয়ে পথে পথে ঘুরে ও বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়েছি। এক পর্যায়ে সীমান্ত অঞ্চল হওয়ায় চোরাচালান কাজে জড়িয়ে পড়ি। ওই কাজে টাকা আয় হলেও সুখ ছিল না। সবসময় পুলিশের আতংক বিরাজ করত। কিন্তু ২০০৯ সালে আফিল জুটমিল চালু হবার পরে এখানে এসে চাকরি নিয়ে কাজ শুরু করি। তারপর সেই অভিশপ্ত পেশা ছেড়ে এখন ভালো আছি। যশোর-বেনাপোল সড়কের নাভারণে ২০০৯ সালের শুরুতে ১৬০ বিঘা জমির উপর গড়ে উঠে আফিল উইভিং জুট মিলস। এখানকার ৪টি শেডে ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। নারী শ্রমিকের সংখ্যা ৪ হাজার। পাশের উপজেলা ঝিকরগাছার সাগরপুর গ্রামেও রয়েছে আফিল জুটমিলের ২ ইউনিট। এখানে কাজ করেন প্রায় এক হাজার শ্রমিক। যার অর্ধেক নারী শ্রমিক। মিলের রপ্তানি শাখার কর্মকর্তা হাসান হাবিবুল্লাহ জানান, মিলে প্রতিদিন ৮০ টন পাটজাত পণ্য উত্পাদনের ক্ষমতা রয়েছে। তবে আমরা উত্পাদন করি ৬০ টন। যা পুরোটাই রপ্তানি করা হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে আমরা ৩ হাজার ৪৪৭ টন পাটজাত পণ্য রপ্তানি করেছি। ২০১১-১২ অর্থবছরে হয়েছে ৫ হাজার ৯১৬ টন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে হয়েছে ৭ হাজার ৫২২ টন, আর চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে হয়েছে ৮ হাজার ১২৫ টন পণ্য। আফিল উইভিং জুটমিলের প্রকল্প প্রধান ইলিয়াস জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠান নারী শ্রমিকদের গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাদের বাড়ি বাড়ি থেকে পরিবহনে করে মিলে আনা-নেয়া করা হয়। এজন্য আমরা ৪৫ কিলোমিটারের জন্য মাত্র ২ টাকা ভাড়া নিয়ে থাকি। নারী শ্রমিকদের জন্য ফ্রি চিকিত্সা ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া মিলের মধ্যে এক হাজার ৫শ’ নারী শ্রমিকের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। যাদের ভর্তুকি দিয়ে চাল, ডালসহ নিত্যপণ্য দেয়া হয়। শার্শা উপজেলার চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মনজু জানান, আমাদের এখানে সীমান্ত অঞ্চল হওয়ায় গরীব অসহায় মানুষ চোরাচালান কাজে বেশি জড়িত। যাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা অধিক। কিন্তু শার্শায় একটি জুট মিল হওয়ায় সেখানে ৪ হাজার নারীর কর্মসংস্থান হওয়ায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে কাজ করে খাচ্ছে।