সাগর-নদীতে মাছ মিলছে না বাজারে শুধু চাষের পাঙ্গাশ

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৪, ২২:৩৬
সাগর ও স্থানীয় নদীগুলোতে মাছের তেমন একটা দেখা মিলছে না। সাধারণত এ সময় সাগরে অনেক মাছ ধরা পড়ে; কিন্তু এ বছর জেলেরা ফিরছেন খালি হাতে। জিয়ানগরের পাড়ের হাটের আড়তগুলোতে সাগর ও নদীর মাছের বদলে মিলছে চাষের পাঙ্গাশ ও কই মাছ। বাজারেও একই অবস্থা। জেলেরা জানান, সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়ছে। যা তাদের খরচের তুলনায় খুবই সামান্য। তার উপরে রয়েছে জলদস্যুদের তাণ্ডব। অনেক জেলে আবার চড়া সুদে বিভিন্ন এনজিও এবং মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে সাগর ও নদীতে জাল নিয়ে নেমেছেন। রমজানে মাছের দাম বেশি থাকলেও এবার জেলেরা মাছই ধরতে পারছে না। পারছে না তাদের কাঙ্ক্ষিত উপার্জন করতে। কিভাবে শোধ করবেন কর্জের টাকা তা নিয়ে চিন্তিত জেলেরা। উপকূলীয় অঞ্চলের জিয়ানগর, পাড়ের হাট, ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর, রাজাপুর, মঠবাড়িয়া, মোরেলগঞ্জের অধিকাংশ বাজারে পাঙ্গাশ, কই ও তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে। আর যদি বাজারে কিছু সাগর বা নদীর মাছ উঠছে তার দাম আকাশচুম্বী। যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। মাছ বিক্রেতা কাদের জানান, পাঙ্গাশ মাছ যশোর এবং সাতক্ষীরা থেকে আনা হয় আর কই আসে ময়মনসিংহ থেকে। ভাণ্ডারিয়ার চরখালী ফেরি ঘাটের মাছ বিক্রেতা ওবায়দুল বলেন, গাঙ্গে এহন আগের নাহান মাছ নাই। যা দুই একটা পাওয়া যায়, হ্যার আবার দাম ম্যালা। পাড়ের হাট মত্স্য বন্দরের আড়তদার নাসির জানিয়েছেন, বেশ কিছু দিন ধরে সাগরে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই এই এলাকার মাছ ব্যবসায়ীরা পাঙ্গাশ এবং কই মাছ বিক্রি করছেন। চরখালীর মাছ ধরা ট্রলার মালিক ইব্রাহিম হাওলাদার জানান, গত ৫টা ট্রিপেই লস হয়েছে। সাগরে তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এই ব্যবসা করে দিন দিন দেনা হয়ে যাচ্ছে। জিয়ানগরের ভারপ্রাপ্ত মত্স্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, আবহাওয়া জনিত কারণে সাগর ও নদীতে মাছ কম ধরা পড়ছে। তাই উপকূলের অনেক এলাকায় চাষ করা মাছের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।