রমজানে ভোগ্য পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে মজুদ বিরোধী অভিযানে নামছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট তিনটি আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব আহমেদ ডিসিদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনাপত্রে বলা হয়, আইন অনুযায়ী প্রতিটি পাইকারি, খুচরা ও পরিবেশক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করার বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এছাড়াও কোনো কোনো ব্যবসায়ী ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে ভোগ্য পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এ বাস্তবতায় রমজানে ভোক্তাদের যাতে অধিক কষ্ট না হয় সেজন্য সরকার ৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। এগুলো হচ্ছে- ভোগ্য পণ্য বিক্রেতাদের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে মূল্য তালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে, বিপণনের ক্ষেত্রে বিক্রির রশিদ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, প্রদর্শিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করা যাবে না, পাইকার-পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা ক্রেতার নিকট পাকা রশিদ দিতে বাধ্য থাকবে এবং বাজার পরিদর্শন দল ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী দলকে চাহিবামাত্র সব ধরনের প্রমাণপত্র সরবরাহ করতে হবে। এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল এবং পণ্য বাজেয়াফত করতে হবে। সব জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কন্ট্রোল অব এসেন্সিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট-১৯৯৬, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন-২০০৯ অনুসরণ করার জন্য ডিসিদেরকে বলা হয়েছে।
অপরদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা মহানগরীর ১৪টি বাজার তদারকির জন্য দল গঠন করা হয়েছে। এ দলে থাকছেন বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন, এফবিসিসিআই, পুলিশ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-সচিব বাজার তদারকির সমন্বয় করবেন। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি তদারকি সেল খোলা হয়েছে।
