সাইবার অপরাধ ঠেকাতে নতুন পথে মাইক্রোসফট

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২০:০৬
সময়ের সাথে সাথে নতুন নতুন রূপে হ্যাকাররা ছড়িয়ে দিয়ে চলেছে নানা ধরনের ভাইরাস, ম্যালওয়্যার বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান। নতুন সংস্করণের অ্যান্টিভাইরাস, অ্যান্টিম্যালওয়্যার বা অন্যান্য প্রোগ্রাম এসব ক্ষতিকর উপাদান ঠেকাতে কার্যকরী হলেও মাঝে মাঝেই কিছু কিছু ভাইরাস ব্যাপকভাবে আক্রমণ করে বিপুলসংখ্যক পিসিতে। এদের ঠেকানোর জন্য নতুন এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট। আক্রান্ত পিসি এবং হ্যাকারদের মধ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে পিসিকে ক্ষতিকর উপদান থেকে মুক্ত রাখার কৌশল অবলম্বন করেছে তারা। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ব্ল্যাডাবিন্ডি এবং জেঙ্কাস নামে দুইটি ম্যালওয়্যার দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা রাজ্যের বিভিন্ন কম্পিউটারে। কুয়েত এবং আলজেরিয়ার হ্যাকাররা এই ম্যালওয়্যারগুলো তৈরি করেছে বলে জানায় তারা। এগুলো ঠেকানোর জন্যই নেভাডার আদালতে আবেদন করে মাইক্রোসফট এবং ফেডারেল কোর্ট থেকে এই বিষয়ে মাইক্রোসফটকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুমতি প্রদান করা হয়। এতদিন পর্যন্ত বেশিরভাগ ম্যালওয়্যার পূর্ব-ইউরোপের দেশগুলোতে তৈরি হলেও নতুন এসব ম্যালওয়্যার পূর্ব-ইউরোপের দেশগুলোর বাইরে তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মাইক্রোসফটের সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করা ডিজিটাল ক্রাইম ইউনিটের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল কাউন্সেল রিচার্ড ডমিঙ্গেস বশকোভিচ। ঠিক কী পরিমাণ পিসি এই ম্যালওয়্যারগুলোতে আক্রান্ত হয়েছে তা জানতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি। এই ম্যালওয়্যারগুলো কোনো পিসিতে প্রবেশ করলে রিয়েল টাইমে পিসির স্ক্রিন মনিটর করতে পারবে, কিবোর্ডে কোনো কিছু টাইপ করা হলে তা মনিটর করতে পারবে, যেকোনো পাসওয়ার্ড জেনে নিতে পারবে এবং পিসি ব্যবহার করে অডিও বা ভিডিও চ্যাট করা হলে তাও চুরি করে নিতে পারবে। বশকোভিচ জানান, ব্ল্যাডাবিন্ডি এবং জেঙ্কাস ভাইটালউইর্কস সার্ভারের মাধ্যমে আক্রান্ত পিসিগুলোর সাথে হ্যাকারদের যোগাযোগ করিয়ে দিত। এখন আক্রান্ত পিসিগুলো ভাইটালউইর্কসের বদলে সরাসরি মাইক্রোসফটের রেডমন্ড সার্ভারে যোগাযোগ করবে। ফলে হ্যাকাররা কোনো ধরনের তথ্য হাতিয়ে নিতে পারবে না। ব্ল্যাডাবিন্ডি এবং জেঙ্কাসের মাধ্যমে শুরু হলেও ভবিষ্যতে সব ধরনের ম্যালওয়্যারের ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি হ্যাকারদের নিরস্ত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ জানিয়েছে মাইক্রোসফট।