মাসব্যাপী তুরাগের দুইপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সফলতা আসলেও এর দূষণ রোধে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও টঙ্গী বাজারের ময়লা-আবর্জনায় প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে তুরাগ। বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যার গাজীপুর সিটি করপোরেশনে পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন গৃহস্থালি বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে তুরাগে।
টঙ্গীসহ সমগ্র গাজীপুর জুড়ে গড়ে ওঠা সহস্রাধিক শিল্প-কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যে বিষাক্ত এখন তুরাগের পানি। সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ আর তলদেশ দিনদিন কঠিন বর্জ্যে ভরাট হয়ে তুরাগ পরিণত হচ্ছে খালে। সম্প্রতি দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সফলতা আসলেও তুরাগের পানি দূষণ রোধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিআইডব্লিউএ কর্তৃপক্ষ। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকাজুড়ে। দুইপাড়ে বসবাসকারীরা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। টঙ্গী শিল্প নগরীর অধিকাংশ শিল্প কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র-ইটিপি না থাকা আবার যন্ত্রটি থাকলেও তার সঠিক ব্যবহার না করায়ও তুরাগ দূষণ হচ্ছে।
বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ কালিমুল্ল্যাহ ইকবাল জানান, তুরাগ দূষণের কারণে প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে তুরাগ পাড়ের বাসিন্দারা। পেটের পীড়া, বমি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা।
তুরাগ পাড়ে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিরাজ সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াদুদুর রহমান জানান, পানির দুর্গন্ধে এই প্রচণ্ড গরমে রুমের দরজা জানালা বন্ধ করে ক্লাস নিতে হচ্ছে। কয়েকবার জেলা শিক্ষা কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। তুরাগকে উদ্ধার পূর্বক পুনঃখনন করে দূষণমুক্ত ও নৌ চলাচল উপযোগী করার দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগীদের।
এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ন কবীর বলেন, আমাদের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। দূষণকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।
