আফ্রিকার স্বপ্ন ভেঙ্গে দিল জার্মানী, ফ্রান্স

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:১৮
নাইজেরিয়া ও আলজেরিয়া আফ্রিকার হয়ে এবার শুধু ইতিহাসই গড়েনি, নকআউট পর্বে হেরেও মাথা উঁচু করেই দেশে ফিরে যাচ্ছে। দুই ইউরোপীয়ান শক্তি ফ্রান্স ও জার্মানির কাছে গত সোমবার রাতে হারলেও বীরত্বপূর্ণ লড়াই করেছে নাইজেরিয়া ও আলজেরিয়া। ব্রাজিল বিশ্বকাপের আগে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরটিতে কখনোই আফ্রিকার দুটি দেশ একই টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে খেলেনি। তবে ক্যামেরুন (১৯৯০), সেনেগাল (২০০২) ও ঘানার (২০১০) মতো নাইজেরিয়াও আশা করেছিল এবার তারা নিজেদের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। বিশেষ করে ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেও ব্যর্থ হবার পর। আলজেরিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের জোড়া গোলে জার্মানি এবং নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জিতে ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে আফ্রিকানদের ছিটকে দিয়েছে। দুই আফ্রিকান দেশের বিপক্ষে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা ইউরোপীয়ান দল দুটি আবার শেষ আটে একে অপরের মুখোমুখি।তাতে সেমিফাইনালে অন্তত একটি ইউরোপীয় দেশের উপস্থিতির নিশ্চয়তা থাকলো। ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রেতে গত সোমবার রাতে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্রয়ের পর চেলসি স্ট্রাইকার আন্দ্রে শুরলে এবং আর্সেনাল মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল অতিরিক্ত সময়ে গোল দুটি দেন। তাতে প্রথমবারের মত শেষ ষোলয় উঠে ইতিহাস গড়া আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জিতে কোচ জোয়াকিম লোয়ের জার্মানি। ফ্রান্স ব্রাসিলিয়ায় শেষ ষোলর আরেক লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তে দুই গোল দিয়ে ২-০ ব্যবধানে হারায় নাইজেরিয়াকে। ৭৯ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন জুভেন্তাস তারকা পল পোগবা। এরপর ইনজুরি টাইমে নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার জোসেপ ইয়োবোর আত্মঘাতী গোলে আফ্রিকান দলটির বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে জয় পেতে জার্মানিকে পুরো ১২০ মিনিট লড়াই চালাতে হয়। অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হলে দ্বিতীয় মিনিটেই জার্মানীকে এগিয়ে দেন শুরলে। বামদিক থেকে থমাস মুলারের নীচু ক্রসে শুরলে পায়ের পিছনে দিয়ে ঠেলে বল জালে জড়ান। ১১৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওজিল। একেবারে শেষ মিনিটে আবডেলমোমেনে জাবু আলজেরিয়ার হয়ে এক গোল শোধ করে আশা জাগালেও তা দলের হার এড়াতে যথেষ্ট ছিল না। আগামী শুক্রবার রিও ডি জেনিরোর ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে জার্মানরা তাদের ইউরোপীয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী ফরাসিদের মুখোমুখি হবে। ১৯৮৬ সালের সেমিফাইনালের পর আবার এই দুই দেশ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। সেবারের লড়াইয়ে জার্মানির কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল ফ্রান্স। পল পোগবার হেডে এগিয়ে যাওয়া ফ্রান্সের জয়টি নিশ্চিত করে দেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার জোসেফ ইয়োবো। তার আত্মঘাতী গোলেই সুপার ঈগসলসদের বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকে বিদায় ত্বরান্বিত হয়। পুরো ম্যাচে অসাধারণ খেলা নাইজেরিয়ান গোলরক্ষক ভিনসেন্ট এনেইয়েমা পোগবার হেডের গোলটি ধরতে ব্যর্থ হলে ৭৯ মিনিটে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ৭৯ মিনিটে প্রায় একচেটিয়া খেলার সুবাদেই পাওয়া আক্রমণ থেকে পোগবা হেডে গোলটি করেন। অবশ্য নাইজেরিয়া গোলরক্ষকের ভুলেই বলটি পান তিনি। কেননা ফরাসিদের সংঘবদ্ধ আক্রমণে দিশেহার গোলরক্ষকটি বলটি হাতের তুড়িতে সাময়িক রক্ষা করতে পারলেও তা বক্সের ভেতরে আগুয়ান পোগবার কাছে যেতেই তিনি আগুয়ান প্রহরীকে হতাশ করে বলটি জালে জড়িয়ে দেন। এরপর ইয়োবো ৯০তম মিনিটে ম্যাথু ভালবুয়েনার ক্রসটিকে সরাতে গেলেও তা তার পায়ে লেগে চলে যায় নিজেদের জালে। নাইজেরিয়া এদিন যা খেলেছে তা অবশ্য খেলার ফলে ফুটে ওঠেনি। কেননা দ্বিতীয়ার্ধে দলটি তাদের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে মরিয়া লড়াই চালিয়েছিল। কিন্তু রক্ষণভাগের ব্যর্থতায় তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হলো না। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশ্যাম বলেন, ‘জয়টা শেষ মুহূর্তে এসেছে। কিন্তু বিশ্বকাপের সব ম্যাচই যে কঠিন আজকের ম্যাচটি তারই প্রমাণ। আমরা এখন বিশ্বের সেরা আটটি দলের মধ্যে একটি। দলের প্রত্যেকের মধ্যেই সেই উপলব্ধি আসতে হবে।’ নাইজেরিয়ান কোচ স্টিফেন কেশি খেলা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের রেফারী মার্ক গেইগারকে নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন । তার মতে রেফারীরাও মানুষ, তাদের ভুল হতেই পারে। কিন্তু এক ম্যাচে এতগুলো ভুল কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বাসস/এএফপি