জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার ৫টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, একনেক সভায় “তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (সেক্টর) শীর্ষক ২ হাজার ৬শ’ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০২০ পর্যন্ত। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এলজিইডি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩১টি পৌরসভায় দারিদ্র্য ও জেন্ডারবান্ধব নগর সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উন্নত নগর অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে পরিসেবার উন্নয়ন; নির্বাচিত পৌরসভাসমূহে সমন্বিত ও সার্বিকভাবে সর্ববিষয়ে উন্নত পৌরসেবা, টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা, জনগোষ্ঠির অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রিত নগর উন্নয়ন ইত্যাদি নিশ্চিত করে সুশাসন ও উন্নত ভৌত অবকাঠামো সেবা নিশ্চিত করা হবে।
অনুমোদিত নেত্রকোনা-ধর্মপাশা-জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক উন্নয়ন (নেত্রকোনা অংশ) শীর্ষক প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০১২ হতে জুন ২০১৫ পর্যন্ত। অনুমোদিত বিরিশিরি-বিজয়পুর স্থলবন্দর সড়ক নির্মাণ (মাদুপাড়া সংযোগসহ) শীর্ষক ৮০ কোটি ৬১ লাখ টাকার অপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০১২ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত। সোলার প্যানেল স্থাপনসহ সমবায় ভবনের অসমাপ্ত অংশের ভৌত নির্মাণ শীর্ষক ৩৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার অপর একটি প্রকল্প সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় সমবায় অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে মার্চ ২০১৪ হতে মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত। প্রকল্পটির মাধ্যমে মূল স্থাপত্য নকশা অনুযায়ী নির্মাণাধীন সমবায় ভবনের ১০ম তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সমাপ্তকরণ; মূল্যবান অফিস ভবনের ক্ষয়-ক্ষতি রোধকল্পে অসমাপ্ত নির্মাণ কাজ সমাপ্তকরণ; বিভিন্ন শাখা ও বিভাগের স্থান সংকুলানের জন্য ৭৫১৯ বর্গমিটার ফ্লোর স্পেস নির্মাণ এবং জরুরি মুহূর্তে ভবনে বিদ্যুত্ ব্যাপক-আপ দেয়ার জন্য ১৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সোলার প্যানেল স্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ওয়্যারিং কাজ সম্পাদন।
ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি (এনএটিপি): ফেজ-১” শীর্ষক ৬৯৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার অপর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষকের চাহিদাভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক উচ্চ অগ্রাধিকার সম্পন্ন গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; বিকেন্দি ক, অংশগ্রহণমূলক ও কৃষকের চাহিদাভিত্তিক জ্ঞাননির্ভর সম্প্রসারণ সেবার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা; কৃষি পণ্যের ফলনোত্তর সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও সরবরাহ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ জোরদারকরণ করা হবে।
