পানকৌড়িদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ঠাকুরগাঁওয়ের ঐ শিমুলগাছটি

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২১:২৬
সূর্য যখন পশ্চিম দিকে হেলতে শুরু করে, সোনালি আভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো শিমুলগাছটি আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সেই আলো গাছের মগডাল ও সবুজ পাতার আড়ালে থাকা পানকৌড়িগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। একটি গাছে একসঙ্গে এত পাখি দেখে আকৃষ্ট হন পথচারীরা। ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার রানীশংকৈল-কাঁঠালডাঙ্গী সড়কে কুলিক নদের পাশে কেউটান গ্রামের শিমুলগাছটিতে এবারও বাসা বাঁধতে শুরু করেছে জলচর পাখি পানকৌড়িরা। ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজেদ জাহাঙ্গীরের মতে, নিরাপদ আবাসস্থল হওয়ার কারণেই পানকৌড়িগুলো কেউটান গ্রামের শিমুলগাছে বাসা বাঁধছে বছরের পর বছর। শিমুলগাছটির মালিক যাদব রায় জানান, বছর ছয়েক আগে এক অগ্রাহায়ণ মাসের বিকালে চার-পাঁচটি পাখি এসে শিমুলগাছের ডালে বসে। পরদিন আরও কয়েকটি পাখি আসে। এর কয়েক দিন পর পাখিতে ভরে যায় গোটা গাছ। পাখিগুলোকে আগলে রাখতে শুরু করেন গ্রামের মানুষ। পাখিগুলোর মধ্যে অধিকাংশই পানকৌড়ি। প্রতিবছর বাড়তে থাকে পাখিদের আনাগোনা। রাতে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে সকাল হতেই পাখিগুলো খাদ্যের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। নীড়ে ফিরে আসে আবার সন্ধ্যায়। সারা বছর ওই শিমুলগাছে বিভিন্ন প্রজাতির কোনো না কোনো পাখি থাকে। তবে মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পাখি আসে। সে সময় পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, রানীশংকৈল-কাঁঠালডাঙ্গী সড়কে কুলিক নদের পাশে সব গাছ ছাড়িয়ে মাথা উঁচু করে থাকা শিমুলগাছটির ডালে ডালে শুধু পাখি আর পাখি। গাছটির ১০০ গজ দূরবর্তী চায়ের দোকানের মালিক চরণ দাস বলেন, ২০০-৩০০ পানকৌড়ি এই গাছে বাসা বেঁধেছে। প্রতিবছর এখানে হাজারের ওপর পানকৌড়ি আসে। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন অনেক লোক এখানে পাখি দেখতে আসে। রানীশংকৈল উপজেলার বাসিন্দা ও বেসরকারি সংস্থার কর্মী আনছুরা বেগম বললেন, ‘ঝাঁকে ঝাঁকে অনেক পাখি যখন উড়ে আসে, তখন দেখতে খুব ভালো লাগে।’ রানীশংকৈলের হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহবুব আলম জানান, পাখি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দে য়া হয়েছে।