জনবল বিশেষ করে লাইনম্যান সংকটের কারণে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় রংপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি -২ এর অধীন গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের আওতাধীন বিদ্যুত্ গ্রাহকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গঙ্গাচড়া জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, ্ওই অফিসের আওতায় ১৮ হাজার ৬শ’ গ্রাহক রয়েছে। প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রতি হাজারে একজন করে মোট ১৮ জন লাইনম্যান প্রয়োজন। সেখানে বর্তমানে রয়েছে ৮ জন। এরমধ্যে ৪ জন গেছে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণে। এখন ৪ জন লাইনম্যান দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনরকমে কাজ চলছে গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসে। তাছাড়া লাইনম্যানদের মূল্যায়ন না করার কারণে কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ নেই। লাইনম্যানরা তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলনও করে আসছে অনেকদিন থেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, একই অভিযোগ ২/৩ দিন করার পরও সময়মত কাজ করতে আসে না। গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের লাইনম্যান ফকরুল ইসলাম বলেন, কাজ করে কোন মূল্যায়ন পাই না। দুর্ঘটনায় কোন লাইনম্যান মারা গেলে খোঁজ-খবর রাখে না কর্তৃপক্ষ। অর্থিক সহযোগিতাও করে না। এছাড়াও আমাদের অনেক দাবি-দাওয়া রয়েছে। কর্তৃপক্ষ শুধু আমাদের অবহেলা করে আসছে। যার কারণে কাজের প্রতি আগ্রহ অনেকটা কমে গেছে। গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম হারুন-অর রশিদ লাইনম্যান সংকট ছাড়াও অন্যান্য কর্মচারী সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, কোন রকমে কাজ চালানো হচ্ছে।
গঙ্গাড়চা ইউনিয়নে বিদ্যুত্ নেই
সারাদেশ যখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হতে চলছে সেই মুহূর্তে তিস্তা নদী বেষ্টিত রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়ন অন্ধকারে কাঁদছে। বিদ্যুতের আলোর অভাবে পিছিয়ে পড়ছে এই ইউনিয়নের জনগোষ্ঠী। এখন সেই বাতি জ্বালিয়ে রাতে পড়াশুনা করতে হচ্ছে এলাকার শিক্ষার্থীদের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের উপর মহলে বছরের পর বছর ধরে ধরনা দিয়েও বিদ্যুত্ সংযোগ পায়নি এখানকার মানুষ। আলমবিদিতর ইউনিয়নে মোট জনসংখ্যা রয়েছে ৩৬ হাজার। মোট ভোটার রয়েছে ২৩ হাজার। এখানে প্রাথমিক স্কুল রয়েছে ৩৩টি, উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে ৬টি এবং মাদ্রাসা রয়েছে ৫টি। এদিকে বিদ্যুত্ না থাকায় সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ গঙ্গাচড়ার জেনারেল ম্যানেজার সোহরাব হোসেন জানান, বরাদ্দ না থাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়নি।
