বেইলী রোডে শত পদের বাহারি ইফতারি

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২২:২৮
রাজধানীতে ইফতারির বিশেষ খ্যাতি রয়েছে এমন এলাকার নাম করলে প্রথমেই আসবে চকবাজার। তবে তার পরের নামটি নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে হবে না। তাহলো, ‘বেইলী রোড’। কারণ, পুরনো ঢাকার স্বাদের ঐতিহ্যর সাথে নতুন ঢাকার আভিজাত্য এ দুয়ের সমন্বয়ে তৈরি হয় বেইলি রোডের ইফতারি। সেইসাথে ফখরুদ্দীন ও ক্যাপিটাল কনফেকশনারির ইফতারি বাজার এই এলাকার ইফতারির বাজারে ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে। ‘ফখরুদ্দীন’-এর শুরুটা সেই ১৯৬৬ সালে। পেঁয়াজু, বেগুনীর মতো দু’তিনটি পদ দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু। এখন তাদের ইফতারির সুনাম ছড়িয়ে গেছে চারদিকে। এবার ২৯টি পদ দিয়ে সাজিয়েছে তাদের ইফতারবাজার। এরমধ্যে রয়েছে, খাসি ও মুরগীর হালিম ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, গরু/খাসির চাপ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিক কাবাব ১ হাজার টাকা কেজি, পরাটা ১০ থেকে ১৫ টাকা, কাচ্চি বিরিয়ানি (খাসি) ২৪০ টাকা, জিলাপী ২০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, দইবড়া ৫ পিসের বক্স ২০০ টাকা, জালি কাবাব/ মুঠিয়া কাবাব প্রতি পিস ৩০ টাকা, কিমার চপ/ কিমার পুরি ২০ টাকা, আস্ত মুরগির রোস্ট ৪৪০ টাকা, খাসির লেগ রোস্ট ৭০০ টাকা, বাসমতির জর্দ্দা ২০০ টাকা। ফখরুদ্দীন-এর ইফতার আয়োজন সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মোহাম্মাদ রফিক গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, রোজাদারদের ফখরুদ্দীনের ইফতারের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। কারণ, আমরা কখনো খাবারের মানের ব্যাপারে আপস করি না। তিনি বলেন, এবার রমজানে রাজধানীতে ৬টি স্পট থেকে আমরা ইফতার বিক্রি করছি। বেইলী রোডে দুটি স্পট ছাড়াও মগবাজার, ধানমন্ডি, উত্তরা ও গুলশানে পাওয়া যাচ্ছে আমাদের ইফতার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফখরুদ্দীনের ইফতারির দাম তুলনামূলক একটু বেশি। তবে মানের সাথে আপস না করায় ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে আমাদের ইফতার কিনেন। এই এলাকায় ৩০ বছর ধরে সুনামের সাথে ইফতারি বিক্রি করছে ক্যাপিটাল কনফেকশনারি। গত কয়েক বছর ধরেই শত পদ দিয়ে ইফতারি বাজার সাজিয়েছে ক্যাপিটাল। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম স্বত্বাধিকারী হাজী সিদ্দিক সরকার ইত্তেফাককে বলেন, তিন পুরুষের ব্যবসা আমাদের। জিলাপী দিয়ে শুরু করে এখন শত পদ আমাদের ইফতারি বাজারে। এটা সম্ভব হয়েছে, কেবল ক্রেতাদের ভালবাসার জন্য। তিনি বলেন, ইফতার বিক্রিকে আমরা ব্যবসা হিসেবে দেখি না, দেখি সেবা হিসেবে। তিনি বলেন, তাদের তৈরি টানা পরোটা, সুতি কাবাব, রেশমি কাবাব, শামি কাবাব, মালাই সমুচা ও ডিমের হালুয়ার সুনাম ক্রেতাদের মুখে মুখে। এছাড়া হালিম, খাসি/ মুরগীর রোস্ট, গরুর চাপ, দই বড়া, ছোলা, বেগুনীতো রয়েছেই। শুধু এ দুটি প্রতিষ্ঠানই নয়, বেইলী রোডে ‘নবাবী ভোজ’, পিঠা ঘর, স্কাইলার্ক, সুইচ, গোল্ডেন ফুড, রেডকোর্ট, বুমার্স, মিস্টার বেকারস, কেএফসি, পিত্জা হাটসহ বিভিন্ন ফাস্টফুড সপে রয়েছে ইফতারির নানা আয়োজন।