বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তাঁর দলের আদর্শগত কোনো মিল নেই। তিনি বলেন, আমরা মধ্যপন্থি। আমরা উগ্র ডানপন্থি নই, উগ্র বামপন্থিও নই। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে আওয়ামী লীগই জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল।
গত রবিবার ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাত্কারটি মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। এই সাক্ষাত্কারে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সফর, নরেন্দ্র মোদীর সরকারের কাছে তার প্রত্যাশা, সাবেক ইউপিএ জোট সরকার সম্পর্কে তার মনোভাব ও বাংলাদেশের রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন খালেদা জিয়া।
নির্বাচনের সময় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার বিএনপিকে সমর্থন না দেয়ায় তিনি হতাশ কি না এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, তাদের পররাষ্ট্র সচিব (সুজাতা সিং) এসেছিলেন। তিনি এইচ এম এরশাদকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বলেন। তিনি অংশ না নিলে নির্বাচন হবে না এবং মৌলবাদীরা ক্ষমতায় আসবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন। তিনি আমাদেরও বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। আমরা বলেছি, নির্বাচনে অংশ নেব না। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তাতে অংশগ্রহণের মানে হয় না। তবে আমি জানি না, প্রকৃতপক্ষে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো ভূমিকা রেখেছিল কিনা। যদিও অনেকেরই বিশ্বাস, তাদের একটা ভূমিকা ছিল। তবে এরশাদ স্বীকার করেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব তাকে অংশগ্রহণের জন্য চাপ দিয়েছেন। আমি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, ১৫৪ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার নজির কোনো দেশে নেই।
ভারতের বিগত কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে নতুন বিজেপি জোট সরকারের নীতিতে কোনো পার্থক্য আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার মতো সময় এখনো হয়নি। কংগ্রেস সরকার বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেনি বলে মনে করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের মানুষের ধারণা। অমীমাংসিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তিতে ব্যর্থতার জন্য ভারত নয়, আওয়ামী লীগই দায়ী। বিগত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারকে আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে দাবি করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে নয়, দুই দেশের জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক হওয়া উচিত।
তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে মমতা ব্যানার্জির আপত্তিকে কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর প্রকৃত কারণ বাংলাদেশের জনগণ জানে না। বিজেপি সরকার স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। আশা করি, তারা দ্রুত ইস্যুটি মীমাংসা করতে পারবে।
বিগত বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসীদের তত্পরতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আছে। ভারতকে আশ্বস্ত করতে বিএনপি কী করতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ভ্রান্ত ধারণা। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ধরনের প্রচার চালানো হয়। ভারত ও প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করতে না দেয়ার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে থেকে অবৈধ অভিবাসন বিষয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কেউ স্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি। আমি মনে করি, বেশি লোক ভারতে যাচ্ছে না। কারণ তারা এখানেই অনেক ভালো করছে।
সাক্ষাত্কারের শুরুতে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় নানা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এছাড়া তিস্তা ও স্থল সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
