মোদী সরকারের সমালোচনা প্রধান বিচারপতির

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৪, ২২:৩০
ভারতের সাবেক প্রধান সরকারি কৌঁসুলি গোপাল সুব্রামানিয়ামকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করায় নরেন্দ্র মোদীর সরকারের সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি আর এম লোধা। তিনি বলেছেন, সরকার কেবল তার নিজের খেয়ালেই সুব্রামানিয়ামের নাম নিয়ে আপত্তি করেছে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে একবারও যোগাযোগ করা হয়নি কিংবা মতামতও চাওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। অথচ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ প্যানেল তার মনোনয়ন চুড়ান্ত করেছিল। সাংবিধানিকভাবে নিয়োগ প্যানেলের এই সুপারিশ মানতে বাধ্য সরকার। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচাপতির বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, দায়িত্ব নেয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় স্বয়ং প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে এজাতীয় অভিযোগ নরেন্দ্র মোদীর সরকারের জন্য চরম বিব্রতকর। কারণ, বিচার বিভাগের উপর হস্তক্ষেপের অভিযোগ ভারতের মতো বৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশের সরকার প্রধানের জন্য আদৌ সুখকর নয়। প্রসঙ্গত ভারতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার জ্যেষ্ঠ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত একটি কলিজিয়াম বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকে। প্রধান বিচারপতি গতকাল এ ব্যাপারে আরো বলেন, একটি সাংবিধানিক পদে নিয়োগ নিয়ে সরকার নির্বাহী বিভাগে নিয়োগ দেয়ার মতো আচরণ করেছে। তিনি জানান, গত ২৮ জুন বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর তিনি আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি ফাইল হাতে পান। এতে লেখা ছিল, আপনার সুপারিশ করা চারটি নামের মধ্যে তিনটি নাম অনুমোদন করা হয়েছে। আর গোপাল সুব্রামানিয়ামের নাম ‘আপত্তির’ তালিকায় রাখা হয়েছে। নামটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হলো। গোপাল সুব্রামানিয়াম এই খবর পেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে নিজের নাম প্রত্যাহার করেন নেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সরকার নোংরা খেলায় নেমেছে। তিনি দাবি করেন, বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা অমিত শাহ’র বিরুদ্ধে একটি খুনের মামলায় তার শক্ত ভূমিকায় দলীয়ভাবে নাখোশ হয়েছে বিজেপি। একারণে তাকে টার্গেট করেছে মোদীর সরকার। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি যখন তাকে ডেকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, তখন ভীষণ সম্মানিত বোধ করেছিলেন। কিন্তু এখন হীনমন্যতায় ভুগছেন। প্রধান বিচারপতি লোধা এ ব্যাপারে গতকাল বলেন, বিচারবিভাগের স্বাধীনতার নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ‘ছেলেখেলা’ করা উচিত নয়।