যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এক দম্পতিসহ ১০ জন নিহত ও অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী বেনেয়ালী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যায়।
যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার রেশমা শারমীন জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সোহাগ পরিবহনের নৈশকোচ (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৪-৩৮৯০) গদখালী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় গাড়িটি রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ৬ জন নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত ২০ জন। আহতদের মধ্যে একজন ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ৩ জন যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। আহত অপর ১৬ জন যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
নিহতরা হলেনঃ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মৃত যোগেন সাহার ছেলে নির্মল চন্দ সাহা (৫৫) ও তার স্ত্রী হেনা সাহা (৪০), ঢাকার ডেমরা এলাকার সারুলিয়া বসুন্ধরা রোডের বজলুর রহমানের ছেলে জামান (৪০), ধোলাইখাল গোলাননগর লেনের বাসুদেবের ছেলে বিদ্যুত্ ঘোষ (৪৫), ধোলাইখাল এলাকার রমজান আলী (৩৫), ঢাকার নবাবগঞ্জের গোবিন্দপুর গ্রামের দিলীপ পালের ছেলে রঞ্জন পাল (৪০), মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী হাসাইল গ্রামের আব্দুস সালাম (৩০), শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার গোয়াখী গ্রামের রণজিত্ পালের ছেলে প্রসেনজিত্ পাল (৩৪), কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের তুলারাও গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মোমিন উদ্দিন (৩৫) এবং রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইলিশপোল গ্রামের বাসিন্দা ও বাসের হেলপার মোমিন মোল্লা (৩৮)।
ঘটনাস্থলে নিহত ৬ জনের লাশ ঝিকরগাছা থানায় এবং ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ৩ জনের মরদেহ রয়েছে। আহতদের মধ্যে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন রয়েছেন ঢাকার ৬৭/১, উত্তর গোলাপবাগ এলাকার আফতাব হোসেন ঝন্টু (৩৫), ঢাকার নবাবগঞ্জ রোড এলাকার রূপলাল সাহার ছেলে হরিদাস সাহা (৫৫), বিক্রমপুর এলাকার সুমন (৩০), ঢাকার শ্যামপুর কদমতলী এলাকার রাকিব (৩০), তাতীপাড়ার শিবু ঘোষের ছেলে জনি ঘোষ (৩৫), তাতীবাজার এলাকার জীবন সরকারের ছেলে রণজিত্ সরকার (৩৫), গীতালী ঘোষ (৪৫), ঢাকার ১১২ আর কে মিশন রোডের গোপিবাগের আবুল কাসেমের মেয়ে সালমা আকতার রুবি (৩০), ঢাকার বংশালের আব্দুল হাদি লেনের আবিদুর রহমানের ছেলে জাহিদুর রহমান ওয়ালিদ (৩০), ঢাকার বিক্রমপুরের নুরুল ব্যাপারির মেয়ে ময়না (২৫) ও ঢাকা উত্তর যাত্রাবাড়ীর কাসেম হাওলাদারের ছেলে আবুল কালাম ওরফে সুমন (৩০)।
স্থানীয়রা জানান, সকালে যশোরাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে যাত্রীবাহী বাসটি গদখালী বেনেয়ালী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ বেপরোয়া গতিতে যশোর-বেনাপোল সড়কের পাশে বিশাল গাছে আঘাত হানে। প্রথম গাছে আঘাত হেনে দ্বিতীয় আরেকটি গাছে ধাক্কা খেলে বাসের ছাদসহ উপরের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ শুরু করে। ঝিকরগাছা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধারকাজে যোগ দেন।
যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার জানান, দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রায় সবাই ভারতে যাওয়ার জন্য বেনাপোলে যাচ্ছিলেন। অধিকাংশের বাড়ি ঢাকা ও আশপাশের এলাকায়। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বজনরা আসলে তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। ইতিমধ্যে বাসের হেলপার মোমিন মোল্লা এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের তুলারাও গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মোমিনউদ্দিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এএসপি জানান, টেলিফোনে স্বজনদের অনুরোধে নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়নি।
গদখালীতে নবাবগঞ্জের শ্যালক
ও বোনজামাই নিহত
দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, গতকাল যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের দিলীপ পালের ছেলে রঞ্জন পাল (২২) ও তার বোনজামাই শরীয়তপুর জেলার গোয়াখালী এলাকার রঞ্জিত পালের ছেলে প্রসেনজিত্ পাল (৩৪) নিহত হয়। নিহত রঞ্জন পাল রাজধানী ঢাকার নিউমার্কেটে মাধুরী জুয়েলার্সে সেলসম্যান ছিলেন। সোমবার রাত ১১টার দিকে তারা ঢাকা থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের স্বজনরা বাড়ির উঠানে বিলাপ করছেন। রঞ্জন পালের বাবা দিলীপ পাল ছেলে ও জামাই হারিয়ে কাঁদছে। মা মনখুশি পাল বিলাপ করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেড়তলা নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৫ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বেড়তলা নামক স্থানে মাধবপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী ট্রাকের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজির মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। ঘটনাস্থলেই সিএনজিতে থাকা এক পরিবারের ৫ সদস্যের মৃত্যু হয়। এরা হলেন বুধল গ্রামের মিজান মিয়া (৫০), তার স্ত্রী নিলুফা বেগম (৪০), শিশুপুত্র জুবায়ের ইসলাম (০১), ভাতিজা মাফুজ মিয়া (২৫) ও তার পুত্র মাসুদ (০৫)। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সিএনজি’র যাত্রীরা আশুগঞ্জ থেকে বুধল আসার পথে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। সড়ক দুর্ঘটনার পর ওই মহাসড়কে প্রায় ১ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ সার্জেন্ট নূর এ হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরায় ট্রেন-ট্রলি সংঘর্ষে নিহত ২
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জনান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরায় মঙ্গলবার দুপুরে ট্রেন ও রেললাইন মেরামতের ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হচ্ছেন আমনুরা রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কোম্পানির জাকিরুল ইসলাম (২৫) ও জাফিরুল ইসলাম (৪৫) । আমনুরা রেলওয়ে জংশনে জিআরপি’র এসআই দুরুল হোদা জানান, রেললাইন পরীক্ষার জন্য একটি ট্রলি দুপুর পৌনে ২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা অভিমুখে যাবার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা হারুনের চাতাল এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি স্পেশাল ট্রায়াল ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ। এতে ট্রলিতে থাকা ওই ২ জন ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ ঘটনায় ভুটু (৩৫), রাসেল (২৫), শিমুল (২০), তৌফিক (২০) ও জিল্লুর (২৫) আহত হন। এদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন গ্রামে।
রাজশাহীতে বাস-ট্রাক
সংঘর্ষে আহত ১০
রাজশাহী অফিস জানায়, পুঠিয়ার বেলপুকুর এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ বলেন, রাজশাহী থেকে পাবনাগামী সাব্বির পরিবহনের বাস ও বিপরীত দিক থেকে রাজশাহীর দিকে আসা ট্রাকের বেলপুকুর এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বাস ও ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ ছিলো।
