হাওয়ার্ডের অম্ল-মধুর দিন

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ১৯:৩১
দু’দিন আগেই চলতি বিশ্বকাপের গোলসংখ্যা দেড়শ’ ছাড়িয়ে গেছে। জায়ান্ট দলের সাথে যত ছোট দলের লড়াই-ই হোক না কেন আগুন ছড়াচ্ছে প্রতিটি ম্যাচ। ফরোয়ার্ডরা যেমন গোল করে চলেছেন, তেমনি পিছিয়ে নেই গোলরক্ষকরাও। একের পর এক দারুণ সেভ করে দলের আশা বাঁচিয়ে রাখছেন তারা। দ্বিতীয় পর্বের কথাই ধরা যাক। এক কলম্বিয়া-উরুগুয়ে আর নেদারল্যান্ডস-মেক্সিকোর ম্যাচ বাদ দিলে প্রতিটি ম্যাচই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। এর মধ্যে আবার দু’টি ম্যাচ গড়িয়েছে টাইব্রেকার পর্যন্ত। গোলরক্ষকরাই এবার নতুন বীরত্বগাঁথা রচনা করে চলেছেন। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলেন টিম হাওয়ার্ড। যুক্তরাষ্ট্রের এই গোলরক্ষক গত মঙ্গলবার রাতে প্রায় একাই রুখে দিয়েছিলেন বেলজিয়ামের মত শক্তিশালী দলকে। মেক্সিকোর গুইলেরমো ওচোয়া কিংবা নাইজেরিয়ার এনেইমারাও প্রহরীর কাজটা বেশ ভালভাবেই করেছেন। কিন্তু একদিক থেকে এদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন এভারটনের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড। পরিসংখ্যান বিবেচনায় তিনি হয়ে গেলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা গোলরক্ষকদের একজন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে করেছেন ১৫টি সেভ। এর মধ্যদিয়ে তিনি প্রায় তিন যুগ ধরে অক্ষত এক রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন। ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে পেরুর র্যামোন কুইরোগা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এক ম্যাচে করেছিলেন ১৩টি সেভ। সালভাদোরের অ্যারেনা ফন্টে নোভায় টিম হাওয়ার্ড তাই নতুন করেই রেকর্ডটি লেখালেন। অবশ্য হাওয়ার্ডের রেকর্ড গড়ার দিনে অবশ্য শেষ বেলায় হাসিমুখ ধরে রাখতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় বেলজিয়াম। ৩৫ বছর বয়সী হাওয়ার্ড পরাজিত দলে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সবচেয়ে বড় তারকা। ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গেছে তার নাম। অতিরিক্ত সময়ে কেবল কেভিন ডি ব্রুয়েন ও রোমেলু লুকাকুই কেবল হাওয়ার্ডের বাধা পেরোতে পেরেছেন। এর বাদে বাকিটা সময়ে রাজ করেছেন হাওয়ার্ডই। গোলপোস্টে সর্বমোট ৩৯টি শট নেয় বেলজিয়াম। এর মধ্যে লক্ষ্য বরাবর ছিল ১৭টি। এর দুটি বাদে সবগুলোই আটকে দেন টিম হাওয়ার্ড। সবচেয়ে বেশি দুর্ভাগ্যবান ছিলেন ডিভোক ওরিগি। তার তিনটি শট আটকা পড়ে হাওয়ার্ডের হাতে। এছাড়া ইডেন হ্যাজার্ডের দু’টি ও ডিফেন্ডার জ্যান ভার্টোঘেনের কয়েকটি শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। হাত তো আছেই, এর বাইরে হাঁটু, কনুই বা বুক দিয়েও বল আটকে দিয়েছেন বিশালদেহী খেলোয়াড়। আবার ডি বক্সের বাইরে এসে ম্যানুয়াল নয়্যারের মত বল ক্লিয়ার করতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন এই খেলোয়াড়। কিন্তু এতো কিছুর পরও ঠেকানো গেল না দলের পরাজয়। দ্বিতীয় পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হল টিম হাওয়ার্ডদের!