র্যাব কর্তৃক প্রায় সাত লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার মামলার প্রধান আসামি মো. সালেহ আহমেদ ওরফে সালেহ ওরফে বার্মাইয়া সালেহ। ইয়াবা উদ্ধারের সময় তিনি পালিয়ে যান। এই মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন ওই আসামি। জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি সালেহ অপরাধ সংঘটনের সময় টেকনাফ থানার একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই সময় আসামি জামিনে ছিলেন। একইসঙ্গে মামলার পক্ষগণ পরস্পর বিরোধী আদেশের সার্টিফায়েড কপি হাইকোর্টে দাখিল করেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য হাইকোর্ট থেকে কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর অধস্তন আদালত থেকে টেকনাফ থানার মামলায় আসামি সালেহর জামিন সংক্রান্ত আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন ওই ম্যাজিস্ট্রেট। এ ঘটনার পরই জাল নথি দাখিল করে আসামির জামিন আবেদন করার বিষয়টি প্রকাশ পায়। তখন হাইকোর্ট জামিন আবেদন খারিজ করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেয়। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া এ আদেশের অনুলিপি গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ পেয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, আসামি সালেহ টেকনাফ মডেল থানার মামলার প্রদত্ত জামিন নামঞ্জুরের আদেশের জাল সার্টিফাইড কপি তৈরি করে আদালতকে (হাইকোর্ট) বিভ্রান্ত করে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ কারণে আসামি সালেহ, তদবিরকারক দিনাজপুরের বিরলের মো. এনামুল হক এবং তদবিরকারককে কাগজপত্র সরবরাহকারী গুলশানের মো. কাশেম আলীর বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমে জামিন হাসিলের চেষ্টার জন্য মামলার নির্দেশ দেওয়া হলো। একইসঙ্গে ৪৫ দিনের মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করবে।
২০১৫ সালের ২০ জুন একটি প্রাইভেটকার জব্দ করে ছয় লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা ও সাত লাখ টাকা উদ্ধার করে র্যাব। ওই ঘটনায় পরদিন ফেনী মডেল থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই মামলায় কারাগার থেকে জামিন চেয়ে আবেদন করেন সালেহ।
