টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে হত্যা মামলার এক আসামি আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল বুধবার বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আসামি হারুন মণ্ডল (২৮) কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পালিমা গ্রামের মৃত ফুলচান মণ্ডলের ছেলে। মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে কালিহাতী থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
কালিহাতী থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, সোমবার রাতে হারুন মিয়া তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে (১৮) পারিবারিক কলহের জের ধরে নির্যাতন করে হত্যা করে। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে নদী থেকে আমেনার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আমেনার পিতা বাসাইল উপজেলার যশিহাটী গ্রামের মোতালেব হোসেন বাদি হয়ে হারুনসহ চারজনকে আসামি করে কালিহাতী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন-হারুনের মা তারা বানু, ছোট ভাই আব্দুল হামিদ ও চাচাত ভাই আরিফ হোসেন।
মঙ্গলবার রাতে পালিমায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি দিনমজুর হারুনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে হারুন তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে (২৮) হত্যার কথা স্বীকার করেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হারুনকে টাঙ্গাইল কোর্টে চালান দেয়া হয়। বেলা দুইটার দিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য হারুনকে আদালত ভবনের পাঁচতলায় ম্যাজিস্ট্রেট মাকসুদুর রহমানের কক্ষের সামনের বারান্দায় নিলে আসামি পানি খেতে চায়। এ সময় একজন পুলিশ পানি আনতে যায়। এই ফাঁকে অপর পুলিশদের উপস্থিতিতেই তিনি বারান্দা থেকে লাফিয়ে নিচে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। হারুনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের পুলিশ সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, আদালত ভবনের বারান্দা থেকে আসামি লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করার ক্ষেত্রে পুলিশের কোন গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) পঙ্কজ কুমার রায়কে।
