উত্তরবঙ্গে তৈরি হচ্ছে ২১৫ কি.মি. মহাসড়ক

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৮
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে যমুনার ৬৫ কি.মি. ডান তীর সংরক্ষণ করে কুড়িগ্রামের সোনাহাটা হয়ে তিস্তা পর্যন্ত নির্মিত হতে যাচ্ছে ২১৫ কি.মি. দৈর্ঘের মহাসড়ক। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রিভার ব্যাংক ইমপ্রুভমেন্ট প্রোগ্রাম (আর বি আই পি) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের ব্যাংকের অর্থায়নে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে এই মহাসড়ক। এই প্রকল্পের সম্ভ্যবতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের একাধিক বিশেষজ্ঞ টিম ইতোমধ্যেই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় সভা হয়েছে। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান ও সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানসহ বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। এই প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের ৩টি নদীভাঙন প্রবণ পয়েন্টে মহাসড়ক এবং বাঁধ রক্ষার জন্য ৬৫ কি.মি. তীর সংরক্ষণ কাজ করা হবে। এছাড়াও কুড়িগ্রামে যমুনার পাড়ে ৩৬ কি.মি. বাঁধ পুণরাকৃতিকরণ, নির্মিত নদী সংরক্ষণ কাজের ৩৩.৫ কি.মি. মজবুতিকরণ, ৪৪টি রেগুলেটর ও একটি তিস্তা সেতু নির্মাণ করা হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাঁধ পুন:নির্মাণ ও ৫০ কি.মি রাস্তা নির্মাণ, ১৫ কি.মি. নদী তীর সংরক্ষণ, ১৬ কি.মি. বাস্তবায়িত নদীতীর রক্ষা কাজের মজবুতিকরণ ও ১৫টি রেগুলেটর পুন:নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নতুন বাঁধের স্থান নির্ধারণে যতদুর সম্ভব পুরাতন বাঁধের গতিপথ অনুসরণ, বাঁধের গতিপথে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, ধর্মীয় স্থাপনা, কবরস্থান, শ্মশান এড়িয়ে চলা হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধকে ৮০ কি.মি. গতি বেগে চলার উপযোগী করে মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। বাঁধের গতিপথ অরক্ষিত নদীতীর থেকে ৪শ’ মিটার দূরত্বে এবং সংরক্ষিত নদীর তীর হতে বাঁধের গতিপথ কমপক্ষে ১শ’ মিটার দূরত্বে রাখা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে উত্তরবঙ্গের বগুড়া, রংপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম জেলার ৩ কোটি মানুষ যমুনা ভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। মহাসড়ক চালু হলে এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য স্বল্প খরচে দ্রুত ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছাবে। সর্বোপরি ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির মাধ্যমে উত্তর জনপদে নবদিগন্তের সূচনা হবে।