মেসি পারলেও ব্যর্থ শাকিরি

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ২২:৪০
আলোচনার শুরুটা ছড়িয়ে পড়েছিল সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচের পরই। ফুটবল পন্ডিতরা বলতে শুরু করলেন আরেকজন মেসি, নাম তার জারদান শাকিরি। সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার পর মাঠেই কলম্বিয়ার কোচও বলেছিলেন শাকিরি মেসি, ম্যারাডোনা, লুইস সুয়ারেজের মতোই ফুটবলার। আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে আগে ব্রাজিলে ফুটবল পন্ডিতরা বলাবলি করলেন সুইস দলেও মেসি আছে। দুই দলের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে সেটা প্রমাণ হয়নি। শাকিরি এ যাত্রায় প্রমাণ করতে পারেননি তিনি মেসির পাশের চেয়ারটায় বসার জন্য প্রস্তুত। ম্যাচে আর্জেন্টিনার মেসিকে যেভাবে দেখা গেছে। সুইজারল্যান্ডের মেসিকে সেভাবে দেখা যায়নি। আর্জেন্টিনার মেসি তিনবার বল নিয়ে ঢুকে গিয়েছিলেন। হয় তো সেবার গোল হয়নি। আর মাঝখান থেকে লাভাজ্জি এবং ডি মারিয়াকে বল গড়িয়ে দিয়েছিলেন কয়েক বার। কিন্তু সেই অংকের খাতায় ঢুকতে পারেননি শাকিরি। দলকে কিভাবে উদ্ধার করতে হয় সেই জাদুটা দেখিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। পারেননি অন্যদের দেয়া মন গড়া তকমা লাগানো সুইজারল্যান্ডের মেসি। মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মেসি বুঝিয়ে দিয়েছেন মেসি একজনই। কঠিন বেড়া জালে আটকা পড়া জমির ভেতর থেকে পায়ের জাদু দিয়ে বলটা উদ্ধার করে সুইসদের বুকে আঘাত করার জন্য ডি মারিয়ার পায়ে ঠেলে দিয়েছেন মেসি। আর সেখান থেকেই ডি মারিয়া শেষ কাজটুকু করেন। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল। সবাই বাহবা দিল মেসিকে। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ঘোষণা দেখানো হলো ম্যান অব দ্যা ম্যাচ লিওনেল মেসি। মেসি সেদিকে না তাকিয়ে মাথা নিচু করে চলে গেলেন ড্রেসিং রুমে। এতো বড় মাপের একজন ফুটবলার। দলের ভার যার কাঁধের উপর। পুরো আর্জেন্টাইনরা যার দিকে তাকিয়ে থাকেন। সেই মেসি নিজেকে প্রচারের আড়ালেই রাখতে চান। নিজের প্রশংসা পছন্দ করেন না। কারো মুখে প্রশংসা শুনলেও সেটা উপভোগ করেন না। ব্রাজিলের পত্র পত্রিকায় মেসি বন্দনা চলছে প্রতিদিন। কিন্তু কোনো দিনও নাকি পত্রিকা খুলে দেখেন না। অন্যদের মুখে শুনেন কিন্তু এড়িয়ে যান। ব্রাজিল বিশ্বকাপে চারটা খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছেন। অথচ তার মুখে এক ফোটা হাসি নেই। অতি উচ্ছ্বাস নেই। একেবারেই স্বাভাবিক। সাধারণ একটা মানুষের মতোই তার আচরণ। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এলেন। সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুরস্কার গ্রহণ করলেন। ক্যামেরায় ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করা হলো। দাঁড়িয়ে পড়লেন একটা সাদামাটা মানুষের মতোই। মুখটা দেখে মনে হলো মাত্র ঘুম থেকে উঠে এসেছেন। চেয়ারে বসতেই সংবাদ সম্মেলনে প্রথমেই বলা হলো মাত্র তিনটি প্রশ্ন করা যাবে। হলের ভেতরে অন্তত ৪০০ সাংবাদিক। বলে নেয়া ভালো সংবাদ সম্মেলনে সবাই কার্ড পান না। মেসিকে প্রশ্ন করবেন কে ? প্রশ্ন শুনে সবার হাত উপরে, আমি করবো।’ ভাগ্যবান তিন জনের প্রশ্নের জবাব দিলেন মেসি। বিশ্বকাপের চার ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার, এটি বিশ্বরেকর্ড কিনা প্রশ্ন উঠলে মেসি বলেন, ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কারটি বিশ্ব রেকর্ড কিনা জানি না। আমি এটা নিয়ে চিন্তা করি না। এখানে পুরস্কার বড় কথা নয়।’ সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটা কেমন হয়েছে ? ‘সুইজারল্যান্ড আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালো খেলেছে। আমরা সুইসদের শক্তি এবং প্রতিপক্ষ হিসাবে একরকম ভেবেছিলাম। আর মাঠে দেখলাম আরকে রকম। আমরা এতোটা ভাবিনি। ওদের লড়াইটা আমাদেরকে অবাক করেছে-বললেন মেসি। কখনো কি মনে হয়েছিল ম্যাচটা হেরে যেতে পারে আর্জেন্টিনা ? মেসি বলেন, ‘আমি তো একটা সময় নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। ম্যাচটা নিয়ে আমি মহা টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম। খেলাটা যতই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ততই আমার ভেতরে একটা ভয় দানা বাঁধতে শুরু করে।’ মেসি কাউকে ভয় পান ? যে মেসি প্রতিপক্ষের রক্ষণ তছনছ করে দেয়ার ওস্তাদ। ফুটবল পায়ে দাঙ্গাবাজের মতো প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের বুক ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে একটুকুও বুক কাঁপে না যার। তিনি সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে বললেন, ভয় লাগছিল। ‘হ্যাঁ বলতে দ্বিধা নেই, মনে হয়েছিল একটা ভুলে আমরা ম্যাচটা হেরে যেতে পারি। দেখলেন তো স্পেন, ইংল্যান্ড কিভাবে বিদায় নিয়ে গেছে। ম্যাচটা ৯০ মিনিটেই আমাদের জেতা উচিত ছিল। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। যে কারণে আমাদের জন্যই ম্যাচটা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলতে হয়েছে বললেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। নিজের ম্যাচ নিজের গোল প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে মেসি বলেন, আমি কতো গোল করেছি, না করেছি সেটা আমি জানি না। আমার গোল কয়টা হয়েছে সেটা বড় কথা নয়। ডি মারিয়া গোল করেছেন। এটাই এখন বড় কথা। আমরা ম্যাচ জিতেছি। আমার পাস থেকে গোল করে দলকে জিতিয়েছেন ডি মারিয়া, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’ বলেই অনুমতি নিয়ে চেয়ার থেকে উঠে গেলেন মেসি।