সালাম মুর্শেদির কলাম

ইতিহাস গড়ার সুযোগ বেলজিয়ামের

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ২২:৪২
নক আউট রাউন্ডের শুরুটাও ভালো ভাবে হলো না আর্জেন্টিনার। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জিতলেও, আমি নিশ্চিত লিওনেল মেসির দলের এই কষ্টার্জিত জয় সমর্থকদের দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়েছে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই তুলনায় আমি বরং বলবো বেলজিয়ামের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। ডার্ক হর্স তকমা নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা দলটি গত মঙ্গলবার রাতে অনেকটাই ফিরে পেয়েছে নিজেদের। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে আর্জেন্টিনা চ্যালেঞ্জ। মার্ক উইলমর্টের দলটি বাড়তি অনুপ্রেরণা বোধ করতে পারে এই ভেবে যে, এই ম্যাচ জিতলেই ইতিহাস গড়বে তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে বেলজিয়াম। ব্রাজিলের বাইরে কোন দলের যদি বিশ্বব্যাপী ভক্ত সমর্থন থাকে, সে দলটির নাম আর্জেন্টিনা। দিয়েগো ম্যারাডোনা ’৮৬ বিশ্বকাপে সেই যে পায়ের জাদুতে মুদ্ধ করেছিলেন ফুটবল প্রেমীদের, সেই রেশ যেন এখনো কাটেনি। গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, অ্যারিয়েল ওর্তেগার পর এখন মেসি-অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ারা মুগ্ধ করে চলেছেন সবাইকে। অথচ এই টুর্নামেন্টে সেই পরিচিত আর্জেন্টিনারই দেখা মেলেনি এখনও। সাবেলার রক্ষণ কৌশল এজন্য যতটা দায়ী, সমান দায়ভার নিতে হবে খেলোয়াড়দেরও। আমি বলবো মেসি কিংবা ডি মারিয়া ছাড়া আর কেউই চোখে পড়ার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। অথচ ক্লাবের জার্সি গায়ে সার্জিও অ্যাগুয়েরো-গঞ্জালো হিগুইনদের পারফরম্যান্স রীতিমতো ঈর্ষা জাগানিয়া। তার ফলাফল বোঝা যাচ্ছে প্রতি ম্যাচেই। আমি ইরান, বসনিয়া কিংবা সুইজারল্যান্ডের মতো দলগুলোকে ছোট করছি না। কিন্তু যেই আর্জেন্টিনাকে আমরা চিনি, তাদের অন্তত এই মাঝারি শক্তির দলগুলোর বিরুদ্ধে জিততে কষ্ট হবার কথা নয়। কিন্তু প্রথম ম্যাচ থেকে আমরা সেই বিষয়টাই দেখছি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ব্রাজিলের সঙ্গে যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে আলবাসিলেস্তারা। ব্রাজিল যেদিন খারাপ খেলছে, তার পরদিনই দেখছি মেসিরা তাদের পথ অনুসরণ করছেন। আমি শঙ্কিত নিজেদের খেলায় উন্নতি করতে না পারলে আর্জেন্টিনাকে শেষ আটে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। বেলজিয়ামের শক্তিমত্তা বিবেচনার পাশাপাশি আমি ভাবছি মার্কোস রোজোর অনুপস্থিতির কথাও। দুই হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঐ ম্যাচে থাকছেন না এই ডিফেন্ডার। আর্জেন্টিনার মতোই গ্রুপ পর্বে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি বেলজিয়ামও। কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে ঠিকই জ্বলে উঠেছে তারকাখচিত এই দলটি। একই সঙ্গে ভুল প্রমাণ করেছে আমার পূর্বানুমানও। আমি বলেছিলাম ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে আমেরিকা জিতবে। কিন্তু উল্টো ডি ব্রুইন এবং রোমেলো লুকাকুর গোলে জয় পেয়েছে বেলজিয়ামই। ভবিষ্যদ্বাণীয় মিথ্যা প্রমাণিত হলেও ফুটবলীয় দৃষ্টিকোন থেকে আমি খুশি। কারণ আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী একটা দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যে রকম দল প্রয়োজন ছিল, বেলজিয়াম তেমনই একটা দল। তারকাদ্যুতিতে আর্জেন্টিনার চাইতে মোটেই পিছিয়ে নেই তারা। মেসি, হিগুইনদের রুখে দিতে প্রস্তুত ভিনসেন্ট কোম্পানি, ড্রাইস মার্সেন্টরা। একটি দিক থেকে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাইতে এগিয়েও থাকবে বেলজিয়ানরা, গোলরক্ষক। থিওবট কোর্তোয়াকে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো তো বটেই টুর্নামেন্টের অন্য অনেকের চাইতে এগিয়ে রাখবো আমি। যদিও গত মঙ্গলবার রাতে কোর্তোয়াকে ম্লান করে দিয়েছেন আমেরিকার গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড। আমরা বেশ কিছু দুর্দান্ত গোলকিপিং দেখেছি এই টুর্নামেন্টে। তবে আমার চোখে তার সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে এই রাতে হাওয়ার্ডের খেলা। গোলবারের সামনে যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই বর্ষীয়ান গোলরক্ষক। তার দৃঢ়তা না থাকলে আমেরিকার কয়েক হালি গোল হজম করে ফেলাটাও বিচিত্র ছিল না! শেষ পর্যন্ত অবশ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখেছি আমরা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্লায়ু চাপ সামলে সেখানে জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়ামই। এখন দেখার বিষয় এই ধারাটাকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত টেনে নিতে পারেন কিনা তারা। যদি সেটা সম্ভব হয়, আমি আগেই বলেছি ইতিহাস অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তবে দিনের বেলা খেলা হওয়ায় পাঁচ জুনের এই খেলায় কিছুটা সুবিধা হবে আর্জেন্টিনার। তবে ইউরোপিয় দেশগুলোকে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ দিতে এই বিশ্বকাপে প্রথম কুলিং ব্রেকের সুযোগ দিয়েছে ফিফা। ব্রাজিলের একটি আদালত এরই মধ্যে দিনের খেলাগুলোর জন্য কুলিং ব্রেক বাধ্যতামূলক ঘোষণা করতে নির্দেষ দিয়েছে ফিফাকে। সুতরাং আর্জেন্টিনা যে লাতিন আবহাওয়ার একচ্ছত্র সুবিধা নেবে এটা বলা যাচ্ছে না। আর সেটা যদি না হয় সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক একটা ম্যাচ দেখতে পারবো আমরা।