মার্কিন কূটনীতিককে তলব দিল্লির

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) ২০১০ সালে ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়েছে এমন অভিযোগের পর শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে তলব করেছে নয়াদিল্লি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব এবং এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যেন না ঘটে এমন আশ্বাস প্রত্যাশা করছে নয়াদিল্লি। ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) গুপ্তচরবৃত্তির তালিকায় ছিল এমন খবর প্রকাশের পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এদিকে, ভারতের এ পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে অনুষ্ঠেয় একটি সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করেছেন মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের সাম্প্রতিক এই বিরোধে বুধবার ম্যাককেইনের ভারত সফরে কালো ছায়া পড়েছে। সাংবাদিক সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পর দুই পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। তবে মার্কিন কূটনীতিককে তলবের বিষয়টি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে উভয়পক্ষ দাবি করেছে। ভারতের জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, আমরা আশাকরি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সাড়া দেবে। এ খবর সত্য হলে নিশ্চয়তা দিতে হবে যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে। গত বছরের ডিসেম্বরেও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের কূটনীতিক দেবযানী খোবড়াগাড়েকে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে বিরোধ দেখা দেয়। তবে নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু করে ওবামা প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুব শিগগিরই ভারত সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে নয়াদিল্লিতে কোনো মার্কিন রাষ্ট্রদূত নেই। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কূটনীতিক হিসেবে রয়েছেন একজন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স। এদিকে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ৩০ বছরের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নজরদারির খবর প্রকাশের পর মোদী প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। বিজেপি নেতারা সতর্কভাবে মন্তব্য করছে। তারা জানিয়েছে সরকার এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। উল্লেখ্য, এনএসএ ২০১০ সালে গুপ্তচরবৃত্তির তালিকায় বেশ কয়েকটি বিদেশি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিজেপিকেও রেখেছিল বলে সোমবার নতুন তথ্য প্রকাশ করেন সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন। ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।